উন্নত চুলার নামে নারীদের উপর ঋণের বোঝা চাপানো চলবে না : ক্লিন ও বিডাব্লিউজিইডি

খুলনা, ১৫ মার্চ ২০১৯ : কার্বন নির্গমন কমালেও উন্নত চুলা গ্রামের নারীদের জন্য চাপসৃষ্টিকারী উপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। ক্ষুদ্রঋণের আওতায় এ ধরনের চুলা বিক্রি করার কারণে দরিদ্র নারীরা আরো দারিদ্র্যচক্রে আটকে যাচ্ছে। সম্প্রতি সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ)-এর সহায়তায় ও বিশ্বব্যাংকের ঋণে গৃহীত ‘Global Clean Cook Bangladesh’ বাস্তবায়নের ফলে এই দরিদ্রদের উপর চাপ আরো বাড়বে। বক্তারা এ প্রকল্পে নারীর সরাসরি ভর্তুকি অংশগ্রহণ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আজ (১৫ মার্চ ২০১৯) খুলনার স্থানীয় একটি হোটেলে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) ও বৈদেশিক ঋণ বিষয়ক বাংলাদেশ কর্মজোট (বিডাব্লিউজিইডি)’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব বলেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক হাবিবুল হক খান, খুলনা বিভাগীয় উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ম. জাভেদ ইকবাল ও নারীনেত্রী রেহানা আখতার। সভাটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ও পরিবেশকথক গৌরাঙ্গ নন্দী। সভায় ক্লিন-এর উদ্যোগে পরিচালিত জিসিএফ-বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিতে নারীর অংশগ্রহণ ও ন্যায্যতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণাপত্রটি উপস্থাপনা করেন ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। গবেষণাপত্রে তিনি জানান, বাগেরহাট, বরগুনা, শরিয়তপুর, নোয়াখালী, যশোর, রাজশাহী ও কিশোরগঞ্জের ১৬৭ জন উন্নত চুলা ব্যবহারকারী নারীর অংশগ্রহণে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। গবেষণাপত্র অনুসারে, প্রকল্পটিতে নারীদের অংশগ্রহণ তো নেইই, বরং প্রকল্পটি গ্রহণের আগে একজন নারীরও মতামত গ্রহণ করা হয়নি। ৭৮ শতাংশ নারী মতামত দেন যে, সংশ্লিষ্ট বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণের টাকা কেটে নিয়ে উন্নত চুলা প্রদান করেছে। এছাড়া ৬৭ শতাংশ নারীর মতে উন্নত চুলার কারণে তাদের রান্নার খরচ বেড়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা অনুসারে জলবায়ু খাতে বাংলাদেশ কোনো ঋণ গ্রহণ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এতদসত্ত্বেও উন্নত চুলার নামে এ প্রকল্পে ২০ মিলিয়ন ডলার (১৬৪ কোটি টাকা) ঋণ ও সবুজ জলবায়ু তহবিল ১৬৪ কোটি টাকা অনুদান এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩৪৬ কোটি টাকা গ্রহণ করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও গ্রামের দরিদ্র নারীদের নিজ অর্থে উন্নত চুলা ক্রয়ের বিষয়টি শুধুমাত্র অনৈতিকই নয় বরং জাতীয় নীতির পরিপন্থী।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্যামল সিংহ রায়, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের হুমায়ুন কবির ববি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ হোসেন, সুজন-এর কুদরত-ই-খুদা, নারীনেত্রী রসু আকতার, কয়রা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, বেলা’র মাহফুজুর রহমান মুকুল, নাগরিক সমাজ-এর অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, ছিন্নমূল’র হোসনে আরা লাকী, ইনসাফ-এর বিদ্যা দিনকার, রূপসা’র হিরন্ময় ম-ল, পরিবর্তন-খুলনা’র শোয়াইব হোসেন, সিডিপি’র ইকবাল হোসেন বিপ্লব, আইন সহায়তা কেন্দ্রের এমএ কাশেম, ক্লিন-এর মাহবুব আলম প্রিন্স, সাজ্জাদ হোসেন তুহিন, সাদিয়া সুলতানা সুমাইয়া প্রমূখ।সংবাদ বিজ্ঞপ্তি