উন্নত গাজীপুর গড়তে আসছে জাহাঙ্গীরের ‘প্যাকেজ’

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে একটি আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে উন্নয়নের একটি প্যাকেজ দিতে যাচ্ছেন নব নির্বাচিত মেয়র আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম।

মঙ্গলবারের ভোটে দুই লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারকে হারান জাহাঙ্গীর। বুধবার সকালে তিনি গাজীপুর শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় গাজীপুরের উন্নয়নে তার পরিকল্পনা তুলে ধরে সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চান জাহাঙ্গীর। বিএনপিকেও হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। বলেন, এই গাজীপুর সবার। সবাইকে নিয়েই শহরটি গড়ে তুলতে চান তিনি।

নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, ‘প্রত্যেকটি নাগরিক চায় তার মৌলিক অধিকার, তার কর্মটা তার জনপ্রতিনিধি যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে। আমার পক্ষ থেকে নাগরিকদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য যা যা প্রয়োজন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।’

কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দেবেন- এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বিশেষ করে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, আমাদের মাদক, আমাদের এখানে জলাবদ্ধতা এবং আমাদের এখানে ময়লা আবর্জনা, ডাস্টবিন, পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য রাস্তার পাশে ফুটপাত তৈরি করে দেয়া, মানুষের অক্সিজেনের জন্য গাছ লাগানো এসব মিলিয়ে আমি একটি প্যাকেজ তৈরি করেছি, আপনাদের মাধ্যমে আমি সেটা জানাব।’

‘একটি পূর্ণাঙ্গ সিটি করার জন্য যা যা প্রয়োজন সবগুলো করার জন্য আমি চেষ্টা করব।’

‘এই প্যাকেজটা তৈরি হয়েছে, সেটি কয় বছর মেয়াদি? তিন বছর নাকি পাঁচ বছর?’- এমন প্রশ্ন ছিল একজন গণমাধ্যমকর্মীর।

জাহাঙ্গীর জবাব দেন, ‘পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে অনেক সময় লাগে, মেধা, শ্রম, অর্থ ব্যয় প্রয়োজন হয়। ভোটের জন্য অল্প সময় গেছে, কিন্তু আমার কাজগুলো করতে সময় লাগবে। কিন্তু এ জন্য আমি আমার আরামকে হারাম করতে চাই।’

‘ভোটের আগে প্রার্থীরা নানা আশা দেয়, কিন্তু ভোটের পর অনেকেই আবার তা ভুলে যায়। আপনিও অনেক আশা দিয়েছেন. ভুলে যাবেন?- প্রশ্ন ছিল জনতার রায় পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতার কাছে।

জবাব আসে, ‘এটা আমার কর্মের মধ্য দিয়েই প্রমাণ পাবেন। যেদিন থেকে আমি দায়িত্ব বুঝে পাব, সেদিন থেকেই আমার কর্ম শুরু হবে।’

‘আমি কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে চাই, আর বক্তৃতা নয়। এখন কাজ দিয়েই মানুষকে খুশি করতে হবে, মানুষের অধিকার বাস্তবায়িত হতে হবে।’

গাজীপুরবাসীকে জাহাঙ্গীরের ‘ম্যাসেজ’

গাজীপুরবাসীর জন্য কোনো বার্তা আছে কি না-জানতে চাইলে নৌকা মার্কার বিজয়ী প্রার্থী বলেন, ‘গাজীপুরবাসীর জন্য ম্যাসেজ হচ্ছে আমরা কিছু করতে চাই ডেভেলপমেন্টের এর দিক দিয়ে। আমাদের দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

‘আমাদের সকলের সহযোগিতায় আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি ভালো কিছু সৃষ্টি করে যেতে চাই। সবার জন্য একটি বাসযোগ্য শহর, মানুষ যেন স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে।’

‘কোনো নেতৃত্বের কাছে কোনো ব্যক্তির কাছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো মানুষ যেন জিম্মি না থাকে, সেই জিনিসটার ওপর খেয়াল রাখতে চাই। সেই জিনিসটাই আমি করতে চাচ্ছি।’

সরকারের বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করতে আলাপ আলোচনার কথাও জানান জাহাঙ্গীর। বলেন, তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।

‘আমি শুনেছি অনেক মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে দূরত্ব থাকতে পারে। সেই হিসাবে আমি বলেছি আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুত… রাস্তা করা হবে, ড্রেনের ব্যবস্থা হবে, গ্যাস, ইলেকট্রিসিটি এক জন আরেকজনের যোগাযোগ থাকে না। সেই হিসাবে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করার জন্য সবার সহযোগিতা লাগবে। বিশেষ করে প্রশাসনিক সকল কাঠামো যেন সবাইকে সহযোগিতা করে।’

গণমাধ্যমের সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন নবনির্বাচিত মেয়র। ‘সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণমাধ্যম বিশাল ভূমিকা রাখবে। এ জন্য আমি মনে করি, বাহিরের জগতের মধ্যে গণমাধ্যমের ইমপরটেন্সটা অনেক বেশি। তারা সত্যটা প্রকাশ করবে।’

সহযোগিতা চাইতে হাসানের কাছে যাবেন জাহাঙ্গীর

গাজীপুরের উন্নয়নে বিএনপির সহযোগিতাও চান জাহাঙ্গীর। জানান, দলটির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের কাছেও যাবেন।

‘আমার দলের সকল নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চাই, আমার প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে সহযোগিতা চাইছি। বিশেষ করে বিএনপি একটি বড় দল, তারা যেন সহযোগিতা না করে।’

‘এলাকার স্বার্থে জনগণের স্বার্থে তারা যেন বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে সবাই যেন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়।’

‘কারণ এই সমাজ, এই গাজীপুর সবার। সবার একটি বাসযোগ্য শহর করতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব।’

‘আমি ওনাকে সম্মানের চোখে শ্রদ্ধার চোখে দেখি, আমি ওনার কাছে যাব, ওনার সহযোগিতা চাইব। একটি পরিকল্পিত নগর করার জন্য আমার যার যার, যে প্রতিষ্ঠানের কাছে, যেখানে যেতে হয় আমি সবাইকে নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আমি সেই কাজটি করতে চাই।’

‘সেই হিসাবে আমি ওনার (হাসান) কাছে সার্বিক সহযোগিতা চাই। ওনাকেও স্বাগত জানাই, ওনি গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং সব কিছু মিলিয়ে… গাজীপুরের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং সব পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতেও আমরা একসাথে থাকতে চাই।’

‘মিথ্যা অপবাদ দেবেন না’

বিএনপির অভিযোগ, সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করে তাদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এই অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন জাহাঙ্গীর। আহ্বান জানান জনগণের রায় মেনে নেয়ার।

‘ওনার (হাসান সরকার) জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা উচিত। মানুষকে যেন ছোট করে কথা না বলে। আমি বিনয়ের সাথে বলছি, ওনি মুরব্বি মানুষ, সিনিয়র মানুষ, না জেনেশুনে মানুষকে যেন কোনো মিথ্যা অপবাদ দেয় না হয়।’

‘যদি কোনো মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়, তাহলে সেটা সন্তানকেই মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়। কোনো পিতা হিসেবে সন্তানকে মিথ্যা অপবাদ দিতে পারে না। সেই হিসাবে মনে করি পিতাদের স্থান অনেক ওপরে। পিতারাও যেন তার সন্তান সঠিকভাবে মানুষ হয়, সেই শিক্ষাটা দিতে হবে।’

‘তফসিলের দিক থেকেই তারা অভিযোগ করে আসছে। যেখানে ৫১, ৫২ বা ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, সেখানে মানুষকে অভিযোগ দিয়ে লাভ হবে না।’

‘গাজীপুরের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ বাহিরের জেলায় বসবাস করে বা চাকরি ব্যবসা করে। ঈদের পর তাদের আসা-যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে যায়। সেই হিসাবে আমি আশায় ছিলাম এখানে ভোটার উপস্থিতি যদি আরও বেশি হতো, তাহলে আরও বেশি ভোট পেতাম।’

Inline
Inline