উত্তরায় জোড়া খুনের নেপথ্যে ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি বছরের অক্টোবরে রাজধানীর উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরে অজ্ঞাত পরিচয় দুই মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তাদের দাবি নিহতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। টাকা ভাগাভাগি ও নিজেদের কোন্দলে তারা খুন হন।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর আদাবরে ঢাকা উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ঘটনায় জড়িত দুই আসামি মনির হোসেন ও মো. ফরিদকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র-ধারালো বটি ও রড।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিবি জানায়, মামলার তদন্ত এবং আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিহত কামাল হোসেন ও ইমন শেখ এবং আসামি মো. মনির হোসেন এবং মো. ফরিদ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। দলের অন্যান্য সদস্য রেজাউল, আল-আমিনসহ তারা রাজধানীর তুরাগ থানাধীন বেড়িবাঁধ, উত্তরা সেক্টর এলাকা এবং ফরিদপুরসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলায় কখনও পাকা রাস্তা, কখনওবা কাঁচা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ডাকাতি করত। দিনের বেলা তারা কখনও রঙমিস্ত্রি, কখনও গাড়ির ড্রাইভার-হেলপার হিসেবে কাজ করত। গভীর রাতে প্রথমে তারা রোড ডিভাইডারের খণ্ড বা বড় পাথর ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাস্তায় চলাচলকারী প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা ইত্যাদির পথরোধ করত। তারপর ধারালো দা, বটি, লোহার রড ইত্যাদি বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার লুটে নিত। কাজ শেষে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিত লুণ্ঠিত টাকা ও মালামাল।

এই ভাগাভাগি থেকেই সৃষ্টি হয় কোন্দল। বিভিন্ন সময় ভিকটিম কামাল ও ইমন লুণ্ঠিত মালের অধিকাংশ নেয়ায় বাকিদের মধ্যে এ নিয়ে সৃষ্টি হয় অসন্তোষ। সর্বশেষ ফরিদপুরে একটি ডাকাতির মালামাল ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। তখনই প্রতিশোধ নিতে গ্রেফতারকৃত আসামি মো. ফরিদ এবং মো. মনির হোসেন ভিকটিম কামাল ও ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

যেভাবে হত্যা করা হয়- ডিবি জানায়, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় যথারীতি ভিকটিম কামাল হোসেন ও ইমন শেখসহ আসামি মো. মনির হোসেন, মো. ফরিদ এবং রেজাউল নামে ডাকাতদলের অন্য এক সদস্যসহ ডাকাতির উদ্দেশ্যে একে একে মিলিত হতে থাকে তুরাগ থানাধীন উত্তরার ১৬ নং সেক্টরে। রাত ৯ টার দিকে ডাকাতির উদ্দেশে রওনা হবার পর ১৬ নং সেক্টরের ২ নং প্লটে কাশবনের ভেতর দিয়ে যাবার সময় এক পর্যায়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মনির ও ফরিদ সঙ্গে থাকা ধারালো বটি ও লোহার রড দিয়ে কামাল ও ইমনকে আঘাত করতে থাকে। এ সময় ভয় পেয়ে সেখান থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় রেজাউল। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট উপর্যুপরি আঘাত করার পর রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকেই মৃত ধারণা করে ফেলে রেখে যায়। যাবার সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো বটি ও রড রাস্তার পাশে ঝোপের ভিতর ফেলে দেয় তারা।

শনিবার আসামিদের আদালতে তুলে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করবে ডিবি।

এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাতে উত্তরার ১৬ নং সেক্টরের ২ নং প্লটে কাশবনে ঘেরা স্থানে ২টি অজ্ঞাতনামা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে তুরাগ থানা পুলিশ। দুটি লাশেরই চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাদের সনাক্তকরণে পুলিশ জটিলতার মধ্যে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হবার পরদিন ২১ অক্টোবর লাশ দুটি সনাক্ত করে তাদের স্বজনেরা। এ ঘটনায় ভিকটিম কামাল হোসেনের পিতা শেখ জলিল বাদী হয়ে তুরাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তুরাগ থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্তে নামে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ।