ঈদের বাজারে মসলার ‘ঝাঁঝ’

ডেস্ক রিপোর্ট : কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এরই মধ্যে মসলার বাজারে লেগেছে ঈদের ঝাঁঝ। মসলার দামে যেন আগুন ধরেছে। অথচ মসলার সরবরাহে নেই কোনো ঘাটতি। আমদানিও বাড়ানো হয়েছে। তারপরও মসলার দাম লাগামছাড়া। প্রতি বছর ঈদুল আজহা এলেই পাল্লা দিয়ে বাড়ে মসলার দাম। এবারের ঈদেও হয়নি এর ব্যতিক্রম।কোরবানির ঈদের আগে আমদানি পর্যায়ে শুধু জিরা ও এলাচের দাম বেড়েছে। অথচ রাজধানীর খুচরা বাজারে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। পাইকারিতে সামান্য বাড়লেও খুচরায় দেড় থেকে দুইগুণ দাম বাড়িয়েছেন বিক্রেতারা। খুচরা পর্যায়ে প্রায় সবধরনের গরম মসলার দামই আগের তুলনায় বেশি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আবার দাম নির্ভর করে ক্রেতারা কতটুকু কিনছেন, তার ওপর।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজার ও কাঁঠালবাগান বাজারের মসলার দোকান ঘুরে পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারে মসলার দামের এই পার্থক্য দেখা যায়।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ‘পাইকারি পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক সরবরাহ ও বাজারদরের ওপর নির্ভরশীল। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দুই চার টাকা বাড়তি নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রত্যেক কোরবানি ঈদেই দাম বাড়িয়ে নেন দেড় থেকে দুইগুণ বেশি। এবারো এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না।’
বাজারে মসলার চাহিদা বেশি হয় কুরবানির ঈদে। মাংস রান্না করতে জিরা, দারুচিনি, এলাচি, গোলমরিচ ও লবঙ্গ অপরিহার্য। এসব মসলা ছাড়া রান্নায় স্বাদ আসে না। রান্নায় অপরিহার্য হওয়ার সুযোগে খুচরা ব্যবসায়ীরা কোরবানি ঈদ এলে হাঁকান বাড়তি দাম। কোনো উপায় না থাকায় সাধারণ মানুষকে বাড়তি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে ‘গরম মসলা’।
খুচরা বাজারে গরম মসলা সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম হারে বিক্রি হয়। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা প্রতি ১০০ গ্রাম জিরা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, এলাচি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, দারুচিনি ৪০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং লবঙ্গ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত এক মাসে জিরা কেজিপ্রতি ৫০ টাকা, এলাচি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, দারুচিনি ৫০ টাকা ও লবঙ্গ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারের খুচরা মসলা বিক্রেতা ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘বেচাকেনা নাই, পুরা দেশেই বন্যা। সব মসলার দাম বাড়ছে। এক মাস আগে যে দামে বিক্রি করছি তার চেয়ে ১০-২০ টাকা বেশি বিক্রি করছি। জিরা আর এলাচে একটু বেশি নিচ্ছি, এই দুইটা চলে বেশি আবার দামও বেশি।’
পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারে মসলার দামের পার্থক্য অনেক বেশি। কারওয়ান বাজারের বড় পাইকারি দোকানে এক কেজি জিরা মিলবে ৩৮০ টাকায়, এলাচ এক হাজার ৪০০ টাকা, লবঙ্গ ১০০০ টাকা, গোলমরিচ ৬৫০ টাকা, দারুচিনি ২৯০ টাকা, তেজপাতা ১৮০ টাকা, আলুবোখারা ৬০০ টাকা, ধনে ১৩০ টাকা, কাঠবাদাম ৬০০ টাকা, কাজুবাদাম ৯৫০ টাকা, পেস্তা বাদাম ১৬৫০ টাকা, আলুবখরা ৪৮০ টাকা ও জায়ফল প্রতিটি আট টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কারওয়ান বাজারে ইন্দোনেশিয়ার শুকনা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। হলুদের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, মানভেদে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা দরে।
হাজী মিজান এন্টারপ্রাইজের ইনচার্জ মোহাম্মদ জামান বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগে যে দামে বিক্রি করেছি এখনো সেটাই আছে। তবে ঈদ হিসেবে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। সেটা জিরা আর এলাচিতে, অন্য মসলার দাম আগের মতোই আছে। এখন যে দামে আছে এই দামেই ঈদের আগ পর্যন্ত বিক্রি হবে, নতুন করে আর দাম বাড়বে না।’
পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারে মসলার দামের পার্থক্য অনেক বেশি কেন জানতে চাইলে মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েতুল্লাহ বলেন, ‘ঈদে খুচরা ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দেয়। এটা সবসময়ই হয়ে আসছে। তবে ক্রেতাদের কাজ হবে যাচাই-বাছাই করে কেনা। ঈদের আগে জিরা আর এলাচের দাম কেজিতে যথাক্রমে ২০ ও ১০০ টাকা বেড়েছে। তবে অন্যান্য মসলায় আগে যে দাম ছিল সেটাই আছে।’
কোনো বাজারে দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না সেটার দেখভাল করার দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের। ঈদের আগে খুচরা মসলা বিক্রেতারা দাম বেশি নিচ্ছে সেটা মনিটরিং করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কারওয়ান বাজার (৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এস, এস, অজিয়র রহমান বলেন, ‘আমরা বাজার মনিটরিং করে যেটা জানি বাজার খুব সহনশীল। তবে এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।’