ঈদের পোশাক পাঞ্জাবি

ফিচার ডেস্ক : অভিনয়শিল্পী আনিসুর রহমান মিলন। টিভি নাটকের পরিচিত মুখ। এখন বেশি ব্যস্ত চলচ্চিত্র নিয়ে। পোশাকে-আশাকে সবসময়ই পরিপাটি দেখা যায় তাকে। তার জীবনশৈলী তুলে ধরেছেন এখানে।

আমার ছেলেবেলা

আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ঢাকায় তেমন কোনো শপিংমল ছিল না। তাই তখন নিউমার্কেট, গাউছিয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। সেসময় আমাদের জুতাগুলোও কেনা হতো এলিফ্যান্ট রোড থেকে। ছোটবেলায় মা-ই আমাকে সঙ্গে করে শপিংয়ে নিয়ে যেতেন। তখন অবশ্য এলিফ্যান্ট রোডের সেঞ্চুরি আর্কেডটা ছিল। এরপর যখন ইস্টার্ন প্লাজাটা তৈরি হয়, তখন কেনাকাটার জন্য যাওয়া হতো সেখানে।

নিজে নিজেই

আমার কোনো ফ্যাশন আইকন নেই। কাউকে অনুকরণ করি না। আমি একদম নিজের ফ্যাশন নিজে করি। আমি কারও ফ্যাশন দেখতেও চাই না। প্রত্যেকটা মানুষের শারীরিক গড়নের উপর একটা ফ্যাশন তৈরি হয়। আমি এমন একজন তারকার ফ্যাশন অনুকরণ বা অনুসরণ করলাম যেটাতে আমাকে মানাবে না।


পছন্দের পোশাক

আমি সাধারণত ক্যাজুয়াল পোশাক পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তাই শার্টের বেলায়ও ক্যাজুয়াল শার্ট ও পোলো টি-শার্টই বেশি কিনি। রং আমার সাদা ও কালো পছন্দ। আর টি-শার্টের বেলাতে হলুদ ও সাদা রং। আর যদি ফরমাল পোশাক পরতে হয়, তখন সম্পূর্ণ ফরমাল স্যুটই পরি। নীলের চেয়ে কালো রঙের জিন্স প্যান্ট বেশি ভালো লাগে। এ ছাড়া গ্যাবার্ডিন প্যান্টটাও বেশ পরা হয়।

আমার বেশির ভাগ ব্লেজারই ‘টপ টেন’ থেকে বনানো। কেন জানি আমার শরীরের মাপটা তারা খুব ভালো বোঝে। গ্রীষ্মের ব্লেজারগুলো কেনা হয় ‘এইচ অ্যান্ড এম, কেলভিন ক্লেইন’ ব্রান্ড থেকে।


ঈদের দিনে

আমার ঈদের পোশাক মানেই পাঞ্জাবি। সঙ্গে পাজামা। এক হাতে থাকতে পারে ঘড়ি, আর আঙুলে আংটি, গলায় সরু একটা সোনার চেইন। ঈদের পরদিন যেহেতু আত্মীয় বা বন্ধুদের দাওয়াতে যাওয়া হয়, তখন একটু কারুকাজ করা পাঞ্জাবি পরা হয়। এ ক্ষেত্রে পছন্দের রং খয়েরি। এদিন পাঞ্জাবির সঙ্গে জিনস পরা হয়। পায়ে থাকতে পারে দুই ফিতার স্যান্ডেল। চোখে থাকতে পারে সানগ্লাস।

চুলের স্টাইলে

সবসময় মাঝারি আকার করেই চুল বেশি কাটানো হয়, যাতে করে সব ধরনের হেয়ার স্টাইলই আমার আয়ত্তে থাকে। মাঝারি আকারের চুল কাটালে যেমন ইচ্ছে তেমন সিঁথি কাটতে পারি। আবার চাইলে চুলে স্পাইকও করতে পারি। ‘মাস্ক’ নামে ধানমন্ডি ৪ নম্বরে একটি সেলুন আছে। আমি প্রায় ৯ বছর ধরে ওই সেলুনেই চুল কাটাই। তাই ওটাই আমার পছন্দের সেলুন।


ত্বকচর্চা

শুটিংয়ের মেকআপের ধকল আর সূর্য রশ্মির হাত থেকে রক্ষা পেতে রাতে অ্যালোভেরার একটি জেল মুখে দিয়ে ঘুমাই। আর প্রতি মাসে সেলুনে গিয়ে একবার ফেসিয়ালটা করানো হয়। দেশের বাইরে গেলে মুখের জন্য টুকটাক ফেসিয়াল মাস্ক কিনে নিয়ে আসি। সেগুলোই আসলে বাসায় ব্যবহার করা হয়।

ঘড়ি আর জুতা

ঘড়ি আর জুতার প্রতি আমার ফ্যাসিনেশনটা একটু বেশি। জুতার ক্ষেত্রে নিত্য দিনের সঙ্গী হিসেবে লোফারটা বেশি পরা হয়। স্নিকার্সও পরা হয়। জুতার ব্র্যান্ডের মধ্যে পছন্দের তালিকায় রয়েছে ‘নাইকি’ ও ‘অ্যাডিডাস’। চেইনের ঘড়িটা বেশি পরি। ‘আমেরিকার এক্সচেইঞ্জ’ ‘গেইজ’সহ অন্যান্য ব্র্যান্ড থেকে কম-বেশি ঘড়ি কেনা হয়।

পছন্দের ব্র্যান্ড

পছন্দের ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে ‘টমি হিলফিগার’, ‘আমেরিকন ঈগলস’ ও ‘হোলস্টার’-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো।

ব্যক্তিগত গাড়ি

দৈনন্দিন চলাফেরার জন্য ‘টয়োটা’ এলিয়েনের একটা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছি। গাড়িটির রং সাদা।


ফিটনেস

ফিটনেস শুধু পর্দার জন্য নয়, নিজের জন্যই করতে হবে। এ বিষয়গুলোতে মনে হয় নিজের সচেতনতা থাকা উচিত। কারণ অনেক ছোট ছোট বিষয় থেকেই ত্বকের ক্ষেত্রে অনেক বড় বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। আমি সাধারণত ডায়েটে থাকি না। হয়তো কার্বোহাইড্রেটটা আমি একটু কম গ্রহণ করলাম। আমি বুঝতে পারি, কোনটাতে কি হয়। যেমন ধরেন আপনি শারীরিকভাবে মোটা হয়ে গেলে আপনার চলাফেরা করতে সমস্যা হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আপনি সেটা করবেন না। আমি ওই জায়গাটাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। আপনি অনেক বেশি চর্বি জাতীয় খাবার খেয়ে নিচ্ছেন। যার কারণে আপনি সমস্যায় পড়ছেন। আমি সে জায়গাটায় সচেতন। আমি যদি প্রতিদিন জিম না করতে পারি, প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করে নেই। যেটা আমাকে ফিট রাখতে সহযোগিতা করবে।