ঈদের ছুটিতে ভারত ভ্রমনে ছুটছেন মানুষ

এস এম মারুফ, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি : এবার ঈদুল আযহা ও জাতীয় শোক দিবসসহ টানা ছুটি পেয়ে চিকিৎসা ও ভ্রমণে ভারতে যাওয়ার যেন ধুম পড়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ যাচ্ছেন জরুরি কাজেও।
যাত্রীরা বলছেন, জরুরি প্রয়োজন থাকলেও এতদিন ছুটি না মেলায় তারা যেতে পারেননি। তবে এখন ঈদ, শোক দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ লম্বা সময় পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
ভারতগামী যাত্রী আল ইমরান জানান, তিনি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। নিজেকে ভাল ডাক্তার দেখানো দরকার। কিন্তু এতদিন ছুটি না পাওয়ায় যেতে পারেননি। এখন লম্বা ছুটি পেয়ে ভারতে যাবার জন্য এসেছি কিন্তু যে দীর্ঘ লাইন তাতে বুঝতে পারছি না এ লাইন শেষে কখন পাসপোর্টের কার্যক্রম শেষ হবে।
পাসপোর্ট যাত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, আমার স্বামী নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করেন। বেশ কিছুদিন থেকে ভারতে যেতে চাই। ঈদে কয়েকদিনের ছুটি পাওয়ায় এখন ভারতে বেড়াতে যাচ্ছি। তবে এ পথে ভারতে যাওয়া আর এই দীর্ঘ লাইন অর্থাৎ নিজের সাথে যুদ্ধ করা মনে হচ্ছে সমান।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মৃনাল কান্তি সরকার বলেন, ঈদ ছুটির মধ্যে আমদানি, রফতানি বন্ধ থাকলেও কাস্টমস ইমিগ্রেশনের সব শাখা খোলা আছে। অন্যান্য সময়ের চাইতে এখন যাত্রীদের যাতায়াত বেশি। তারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন তার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও রয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মাসুম বিল্লাহ জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে এ পথে বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন সাধারণত ৩ থেকে ৪ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে যায়। এখন ঈদ ছুটিতে তা বেড়েছে। ঈদের আগের দিন ১১ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে গেছেন ১৮ হাজার ১৮৬ জন যাত্রী। এদের মধ্যে বাংলাদেশি যাত্রী রয়েছে ১৬ হাজার ৯১০জন, ভারতীয় এক হাজার ২৬৩ জন ও অনান্য দেশের ১৩ জন। এছাড়া এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে মো: শরিফুল ইসলাম জানান, ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে বলতে পারব আজ মোট কতজন পাসপোর্ট যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেছে। তবে সকাল থেকে এ পর্যন্ত আনুমানিক ছয় হাজার যাত্রী এ পথে ভারতে প্রবেশ করেছেন বলে তিনি জানান।