ইসি ঐক্যফ্রন্ট বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক : তফসিল পেছানোর দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। ফ্রন্ট নেতারা কমিশন সদস্যদেরকে সতর্ক করে বলেছেন, নির্বাচনের পরেও তাদেরকে দেশেই থাকতে হবে।

এ ছাড়া ইভিএম ব্যবহার, বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক নেতাদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কি হয় বৈঠকে।

গতকাল বিকালে নির্বাচন কমিশনে যান ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বৈঠক চলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। এ সময় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বুধবার সরকারের সঙ্গে সংলাপের ফল দেখে ইসিকে তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ জানান। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তফসিল ঘোষণার আগে বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠক করবে কমিশন। সেখানে সিদ্ধান্ত হবে তফসিল পেছাবে কি না।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

রব বলেন, ‘অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য চেষ্টা করবে বলে ইসি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা বলেছে, নির্বাচনের পরেও আমাদের মা বাবা সন্তান সন্ততি এদেশে থাকতে হবে। আমরা বলেছি, আপনারা ২০১৯ সালের নির্বাচনের পরে এদেশের থাকবেন সেভাবেই কাজ করবেন।’

আগামী ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত আছে নির্বাচন কমিশনের। জানানো হয়, তফসিলে ভোটের জন্য দেড় মাসের মতো সময় দেয়া হবে। এই হিসাবে ভোট হতে পারে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে।

তার আগের দিন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এখনই তফসিল ঘোষণা না করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনে।

বৈঠকের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা নেই। জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে আস্থা নেই। নেতারা শুধু বড় বড় কথা বলেন।’

সিইসির এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সিইসিকে সংযতভাবে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানান মান্না।

সিটি নির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। বলেন, রাজশাহীতে একটি কেন্দ্রেও বিএনপির এজেন্টরা ঢুকতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়েও পাল্টাপাল্টি কথা হয় দুই পক্ষে মধ্যে। নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আইনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের সুযোগ নেই। অতীতে যেভাবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা মোতায়েন হয়েছে সেভাবে হতে পারে। কিন্তু সেটা তফসিল ঘোষণার পর কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।’

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, ভোটারদের আস্থা অর্জনে সেনাবাহিনী প্রয়োজন রয়েছে। দুর্বৃত্তদের দমন করতে গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও দেয়া দরকার।
ফ্রন্ট নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, ‘৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর করা যাবে না।’

ইভিএম নিয়ে মান্নার চ্যালেঞ্জ

ইভিএমে কারচুপি করা যায়, এমন অভিযোগ করেন মান্না। এসময় নির্বাচন কমিশনাররা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, এটা সম্ভব নয়। জবাবে মান্না বলেন, তিনি দেখিয়ে দেবেন কীভাবে ইভিএমের ফল পাল্টানো যায়।

বৈঠক শেষে রব বলেন, ‘২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সংসদের মেয়াদ আছে। অনেক সময় এখনও রয়েছে। ইতিপূর্বে বহুবার তফসিল পরিবর্তনের রেকর্ড আছে। অতএব এবারও ৮ তারিখে তফসিল ঘোষণা করতেই হবে না হলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে, এমন না।’

প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে নজর থাকবে: ইসি

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাত তারিখে একটি আলোচনা আছে। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সেখানে নজর রাখতে বলেছেন।’
‘তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। ৮ তারিখে তফসিলের বিষয়ে যেহেতু সিদ্ধান্ত হয়ে আছে, তবে ৭ তারিখের বৈঠকের ফলাফল ৮ তারিখে প্রতিফলিত হবে। ৮ তারিখ সকাল ১০ টায় কমিশন সভায় সংলাপের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বৈঠকে দুইপক্ষে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে কি না জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন বলেন, ‘উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নয়, ওনারা রাজনৈতিক নেতা। ভেতরে গলার আওয়াজ এমনই ছিল।’

ফ্রন্টের পক্ষ থেকে কমিশনে আরও যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নঈম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

অন্যদিকে কমিশনের পক্ষে সিইসি ছাড়াও ছিলেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন চৌধুরী ও সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।