ইসিতে নতুন নিবন্ধনের জন্য টিকেছে দুটি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণআজাদী লীগ ও বাংলাদেশ কংগ্রেস নামে দুটি রাজনৈতিক দলের আবেদন ছাড়া বাকিদের শর্ত পূরণ না হওয়ায় বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন পাওয়া ৭৫টি দলের মধ্যে শর্তপূরণ না হওয়ায় ৭৩টি দলের আবেদন বাদ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ইসির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান সচিব।

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন চেয়ে গত অক্টোবরে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল ইসি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নতুন কোনো দলকে নিবন্ধন পেতে হলে একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং দেশের কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি থাকতে হবে। সেই সঙ্গে অন্তত ১০০ উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সম্বলিত দলিল থাকতে হবে।

সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। ২০০৮ সাল থেকে এই নিয়ম চালুর পর বর্তমানে দেশে ৩৯টি নিবন্ধিত দল রয়েছে।

ইসি সচিব জানান, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য ৭৫টি দল প্রাথমিকভাবে আবেদন করেছিল। নির্ধারিত ফি না দেওয়ায় ১৯ দলের আবেদন বাতিল হয়। এরপর ৫৬টি দলের সম্পর্কে আরও কিছু চাওয়া হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য ৯টি দল না দিতে পারায় তাদের বাতিল করা হয়। এরপর ৪৫টি দল রাখা হয়। আজ সেখান থেকে শর্তপূরণ না হওয়ায় ৪৩টি দল বাতিল করা হয়। গণআজাদী লীগ ও বাংলাদেশ কংগ্রেস নামে দুটি রাজনৈতিক দলের আবেদন রাখা হয়োছে। এ দুটি দলের আবেদন আমলে নিয়েছে কমিশন। এখন মাঠপর্যায়ে এদের খোঁজ নেওয়া হবে। তাদেরটা আরও যাচাই বাছাই করা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত হবে তাদের ব্যাপারে।

এছাড়াও সচিব আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের পরে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা তৃণমূল বিএনপি নামে একটি দলের নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করেন। নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদনটি আসায় কমিশন তা বাতিল করে দেয়। পরে তিনি হাইকোর্টে যান এবং হাইকোর্ট কমিশনকে বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেন। কমিশন আদেশটি বিবেচনায় নিয়ে দলটির কাগজপত্র দেখে। যেহেতু আবেদনটি নির্ধারিত সময়ে আসেনি এবং সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেননি, এছাড়া আবেদন যাচাই বাছাই করে আরও দেখা গেছে নিবন্ধন দেওয়ার মতো সেখানে যে তথ্য দরকার তা নেই। তাই কমিশন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, জুনায়েদ সাকীর গণসংহতি আন্দোলন, শরীফ নূরুল আম্বিয়ার জাসদ একাংশের বাংলাদেশ জাসদ, ববি হাজ্জাজের এনডিএম নিবন্ধনের জন্য আবেদ করেছিল ইসির কাছে।