ইসলামী ব্যাংকের দুই দিনব্যাপী ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের দুই দিনব্যাপী ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন বৃহস্পতিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুরু হয়েছে। ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকটির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী মো. আবদুল হামিদ মিঞা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন, এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ড. মো. জিল্লুর রহমান, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ চৌধুরী, পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল আলম, মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জয়নাল আবেদীন, মো. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল করিম, অধ্যাপক মো. নাজমুল হাসান, সৈয়দ আবু আসাদ ও মো. মোসাদ্দেক-উল-আলম।

আরও বক্তব্য দেন ব্যাংকের শরিআহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন এডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠানে ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর প্রধান কার্যালয়ের উর্ধ্বতন নির্বাহী, জোন প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকরা অংশ নেন।

সম্মেলনে জানানো হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা যা গত বছরের তুলনায় ৭ হাজার ২ শত ৪৪ কোটি টাকা বেশি। একই সময়ে ৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগসহ মোট সাধারণ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ হাজার ৯৯ কোটি টাকা এবং গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক আমদানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আহরণ বাণিজ্য করেছে যথাক্রমে ৩৮ হাজার ৫ শত কোটি, ২৪ হাজার কোটি এবং ২৩ হাজার ৩ শত কোটি টাকা।

চেয়ারম্যান আরাস্তু খান প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের মূল চালিকাশক্তি হলো শরিআহ। তাই শরিআহ পরিপালনের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। শরিআহ্ নীতির পরিপালন, পরিচালনা পর্ষদের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিচালন কৌশল, কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, সততা ও আন্তরিক সেবার ফলেই ইসলামী ব্যাংক দেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এবং উন্নয়নের সর্বজনীন মডেল। ইসলামী ব্যাংক এ উন্নয়নের সহযোগী ভুমিকা পালন করছে। সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যাংক পরিচালনার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে আরো বেশি অবদান রাখতে তিনি শাখা প্রদানদের প্রতি নির্দেশনা দেন।

ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন তার ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের সকল আইন, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ম-নীতি পরিপালন এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি লালন করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য কল্যাণধর্মী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষের আস্থার এ ব্যাংকের পরিপালন সংস্কৃতি পেশাদারিত্বের মডেল। এ অবস্থান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ছড়িয়ে দিতে শাখা প্রধানদের আহবান জানান। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে তিনি ব্যাংকারদের আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে আহবান জানান।

ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী মো. আবদুল হামিদ মিঞা সভাপতির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশে ব্যাপক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, প্রয়োজনমুখী বিনিয়োগ, সামাজিক দায়বদ্ধ কার্যক্রম ও পল্লী উন্নয়ন কর্মসুচির মাধ্যমে অবহেলিত, পশ্চাদপদ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করছে। দেশের কৃষিখাতে বিনিয়োগ অগ্রাধিকার দিয়ে ইসলামী ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বিকাশ, পরিবহণ ও আবাসন খাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ যোগাচ্ছে। তিনি বলেন ক্ষুধা, দারিদ্র ও বৈষম্যমুক্ত একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে এই ব্যাংক। পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যাংকের মানসম্মত সেবা আরো বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি শাখাপ্রধানদের প্রতি আহবান জানান। ২০১৭ সালের সার্বিক অর্জনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ২০১৮ সালে দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সকল সূচকে আরো উন্নতি করার পরামর্শ দেন।

Inline
Inline