ইভিএম সিস্টেমটাই ত্রুটিপূর্ণ: ফখরুল

ডেস্ক : নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের যে তোড়জোড় নির্বাচন কমিশন শুরু করেছে এটাকে ভালো চোখে দেখছে না রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলটি মনে করছে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতেই এই ইস্যু সামনে আনা হয়েছে। ইভিএম কোনোভাবেই বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবিসি বাংলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তি রয়েছে জেনেও নির্বাচনের ঠিক আগে ইভিএম ব্যবহারের কথা তোলার পেছনে কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে।

ফখরুল বলেন, ‘ইভিএম ইস্যু তুলে নতুন আরেকটি বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে সরকার।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কোনোভাবেই বিএনপির কাছে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ সিস্টেমটাই ত্রুটিপূর্ণ। এই পদ্ধতি দিয়ে কখনও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। তারা (নির্বাচন কমিশন) পুরোপুরি সরকারের তল্পিবাহক হয়ে গেছে। সরকার যা চাইছে তাই তারা করছে।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে জাতীয় নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছিল গত বছর। সেই রোডম্যাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি বাদ দেয়া হয়েছিল।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সীমিত পর্যায়ে ‘সফল’ ব্যবহারের পর এবার জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার কমিশনে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য সিদ্ধান্ত হলেও গণ-প্রতিনিধিত্ব আইনে পরিবর্তন আনতে হবে।

নির্বাচন কমিশন কী বলছে

কেন তারা এখন ইভিএমের কথা বিবেচনা করছেন – এ প্রশ্নে কমিশনের সচিব হেলালউদ্দিন আহমেদ বিবিসিকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি যতটুকু ব্যবহার হয়েছে তাতে রাজনৈতিক দল বা ভোটার কোনো পক্ষ থেকেই কোনো অভিযোগ কখনও আসেনি।

‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন সিটি করপোরেশন বা পৌরসভাসহ যতগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা করেছি আমরা ইভিএম ব্যবহার করেছি। কোনো না কোনো কেন্দ্রে ব্যবহার করেছি। সফলভাবে ব্যবহার করেছি। এখন আমরা যদি আইনগত সাপোর্ট পাই, তাহলে পার্লামেন্ট ইলেকশনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা আমাদের আছে।’

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশে সংশোধনী আনতে হবে। কমিশন এমন প্রস্তাব পাঠালে সরকারের অনুমোদনের পর তা সংসদে পাস করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রায় দেড় লাখ ইভিএম কেনার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব তারা সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। আগামী নির্বাচনে প্রায় একশ আসনে তারা এই যন্ত্রটি ব্যবহার করতে চান।