ইবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে শাখা ছাত্রলীগ কর্মীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ৩৩৫ নম্বর রুমে এ ঘটনা ঘটে।

রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ হলের ৩৩৫ নং রুমে মিটিং আছে বলে সোহেল রানাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাত ১০ টার দিকে ওই কক্ষে সালাহউদ্দিন আহমেদ সজলের নেতৃত্বে ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে শিহাব, আইসিই বিভাগের ১০-১১ শিক্ষাবর্ষের মিঠু কবির, আইসিই বিভাগের রুবেল হোসেন, লোক প্রশাসন বিভাগের ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মুস্তাফিজুর রহমান শিপনসহ সাত থেকে আটজন রানাকে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে মেঝেতে পড়ে যায় রানা। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন, ‘তাকে মারধোর করা হয়নি। তবে সে আমাকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা তাকে হল থেকে চলে যেতে বলেছে।’

সোহেল রানা জানান, ‘আমি ছাত্রলীগ সভাপতিকে নিয়ে কোনো বাজে মন্তব্য করিনি। তবে আমি ছাত্রলীগের অন্য গ্রুপের সাথে থাকি এটাই আমার দোষ। আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সোহেল রানা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং ঝিনাইদহ জেলার কোট চাঁদপুর উপজেলার সাব্দালপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় মিঠু কবির এবং রুবেল হোসেনকে সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই অপরাধে মিঠু কবিরকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া সোহেল রানাকে মারধোরের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।