ইবিতে ভর্তি পরীক্ষা আবার নেয়ার দাবি

ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষার উত্তরপত্রে ‘হিসাব বিজ্ঞান’ অংশে ‘ব্যবসায় শিক্ষা’ লেখা ছিল। ফলে প্রশ্নপত্রের নম্বর বিন্যাসের সাথে উত্তরপত্রের নম্বরের অমিল দেখা দেয়। এ ঘটনায় আবার ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের সভাপতি ও আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী।

সকাল সাড়ে নয়টায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ‘হিসাব বিজ্ঞান’ অংশে ‘ব্যবসায় শিক্ষা’ লেখা ছিল। ফলে প্রশ্নপত্রের নম্বরের সাথে (ওএমআর) উত্তরপত্রের নম্বরের অমিল দেখা দেয়। এতে বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। প্রশ্নপত্রের হিসাব বিজ্ঞান অংশে ৪৬ থেকে ৬০ হিসেবে নম্বর সাজানো ছিল। এ অংশের উত্তরপত্রে ৩১ থেকে ৪৫ হিসেবে নম্বর দেয়া ছিল। একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষা অংশে প্রশ্নপত্রে ৩১ থেকে ৪৫ হিসেবে নম্বর সাজানো ছিল এবং একই অংশের উত্তরপত্রে ৪৬ থেকে ৬০ হিসেবে নম্বর হিসেব দেয়া ছিল। এছাড়াও ২০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ৬১ থেকে ৮০ এবং উত্তরপত্রে ১ থেকে ২০ হিসেবে নম্বর সাজানো ছিল। পরে ইউনিট কমিটির নির্দেশনায় বিষয়টি সংশোধন করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক শিক্ষক জানান, প্রথমে ইউনিটের পক্ষ থেকে উত্তরপত্রের (ওএমআর) নম্বরকে ধরে পরীক্ষা গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এর দশ মিনিট পরে প্রশ্নপত্রের নম্বরকে ধরে পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।’

কুষ্টিয়া থেকে পরীক্ষা দিতে আসা ভর্তিচ্ছু শিমু ও লুইসিয়া জানান, প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে উত্তরপত্রে সাজানো নম্বর অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে বলেন স্যাররা। কিছুক্ষণ পরে প্রশ্নপত্রের নম্বর অনুযায়ী নির্দেশ দেয়। এভাবে পরীক্ষা দিতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। কোন নিয়ম মেনে পরীক্ষা দেব? জানিনা ফলাফল কি হবে।’

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পরীক্ষা আবার পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, পরিকল্পিতভাবে পছন্দের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর জন্য ‘সি’ ইউনিটে পরীক্ষায় এমনটি করা হয়েছে। আমি এ পরীক্ষা আবার গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

রবিবার অনুষ্ঠিত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় মীর মোশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনের ৩১৬, ৩১৭ সহ বেশ কয়েকটি কক্ষে শিক্ষার্থী হিসেবে অর্ধেক প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। পরে প্রশ্ন সংকট পড়লে আবার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে ইউনিট কমিটি।

‘সি’ ইউনিট সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. অরবিন্দ শাহা বলেন, ‘এটা টাইপিং মিসটেক ছিল। বিষয়টি জানার পর সমাধানের জন্য পরীক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

Inline
Inline