ইটভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট ফসলি জমি

jomiকিশোরগঞ্জ সদরে গড়ে ওঠা একটি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের কয়েকশ একর ফসলি জমির ধান। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষ। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এলাকাবাসী জানায়, ইটভাটার আগুন বন্ধ করলে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া চিমটির উপর দিয়ে না গিয়ে বের হতে থাকে চুলার নিচ দিয়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই তা বাতাসের সাথে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গাছ-গাছালি ও ফসলি জমিতে। এতে পুড়ে যায় কৃষকের ধানি জমি। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এমনকি মরে যায় পুকুরের মাছও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আধুনিক পদ্ধতিতে ইট পোড়ানোর নিয়ম থাকলেও তার কিছুই মানেনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা আর এম বি ব্রিকস নামের এই ভাটার মালিক। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল ভাটার মালিক।
এদিকে অবৈধ এ কার্যক্রমের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক রফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় স্থায়ীভাবে ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কৃষকের অন্তত এক হাজার একর ধানের জমি নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন গাছের পাতা ঝড়তে শুরু করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এরই মধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
অবৈধভাবে ইটপোড়ানোর বিষয়টি এতোদিন স্থানীয় প্রশাসনের নজরে না আসলেও, খবর পাওয়ার পর ইটভাটা বন্ধের পাশাপাশি মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসের বেগ। তিনি জানান, নিষেধ করার পরেও চুরি করে ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছিল। আর এ জন্যই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেবার পাশাপাশি ইটভাটাটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইটভাটার মালিক চাঁন মিয়া জানান, আগুন মিস্ত্রিরা চুলা বন্ধ করে দেয়ার পর কিছু ধোঁয়া বের হয়। এর ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ তিনি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করে দিয়ে দিবেন। তবে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে সেই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।

ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেবার পাশাপাশি ইটভাটাটি সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।