আ.লীগের নিবন্ধন থাকা উচিত কি না প্রশ্ন রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগকে ‘সন্ত্রাসের ঊর্বর জমি’ আখ্যা দিয়ে দলটির নিবন্ধন থাকা উচিত কি না, প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী। বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রধান শেখ হাসিনা সাহসী নন, তিনি একজন ভীতু।

শনিবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে করা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন তুলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

আগের দিন শরীয়তপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রকাশের পর বিএনপি এখন একটি সন্ত্রাসী দল। আন্তর্জাতিকভাবেও কানাডার আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন থাকার যোগ্যতা বিএনপির নেই।’

২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ দলের চার নেতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ তিন জনের ফাঁসির আদেশ এসেছে। আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে এই হামলায় সে সময়ের রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে।

জবাব রিজভী আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আপনাদের লোকদের কর্তৃক এত খুন-জখমের পরেও কি আওয়ামী লীগের রেজিস্ট্রেশন থাকা উচিত? আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচারের টিকে থাকার মূল ভিত্তিই হচ্ছে সহিংস সন্ত্রাস।’

‘বরাবরই সন্ত্রাসের উর্বর জমি হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাদের বক্তৃতা, আচরণ, দেশ শাসন সর্বত্রই রক্তাক্ত সন্ত্রাসের চিহ্ন দৃশ্যমান। আওয়ামী সন্ত্রাসের ধারা জেনেটিকেল। তারা শুধু গুম, খুন আর ক্রসফায়ারের ব্যাপক বিস্তার ঘটাতে আইন আদালতকে গড়ে তুলেছে রাষ্ট্রীয় টেররিজমের হাতিয়ার হিসেবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্রলীগের হাতে রক্তে রঞ্জিত। কেবলমাত্র আধিপত্য বিস্তার নিয়েই ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেরা একে অপরকে হত্যা করেছে। গণমাধ্যমে তথ্যানুযায়ী ছাত্রলীগের হাতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির ভাগাভাগি নিয়ে খুন হয়েছে ২৭ জন।’

রিজভী বলেন, মূলত শেখ হাসিনা বিএনপি দলটিকেই নিশ্চিহ্ন করার খেলায় মেতে উঠেছেন। তা না হলে তাঁর গদি রক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। শেখ হাসিনার মনে ন্যূনতম সাহস নেই, আছে শুধু ভয়। ক্ষমতা হারানোর ভয়। বিলকুল সব হারিয়ে যাওয়ার ভয়।’