আল্ট্রাসনো রিপোর্টে দুই শিশু, দুই দফা অস্ত্রোপচারে মিলল একটি

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরে সিরাজিয়ান অপারেশনের আগে ও পরে আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে দুটি বাচ্চা দেখা গেলেও অস্ত্রোপচারে একটি শিশু পাওয়া গেছে। প্রসূতির পরিবারের চাপের সুখে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচারও করা হয়। তবে পেটে পাওয়া যায়নি কোনো শিশু।

শনিবার রাত আটটার দিকে এবং রবিবার বিকাল পাঁচটার দিকে একই প্রসূতিকে দুইবার অস্ত্রোপচার করার ঘটনাটি ঘটে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মহল্লায় ডা. জাহিদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে। দুই বারই এ অস্ত্রোপচার করেছেন গাইনির চিকিৎসক রিজিয়া আলম।

প্রসূতির নাম সেলিনা বেগম। তিনি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুরের গ্রামের সৌদি প্রবাসী আজাদ খলিফার স্ত্রী।

সেলিনা বেগমের বড় বোন জাহানারা পারভীন জানান, শনিবার বিকালে প্রসব ব্যাথা নিয়ে ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে ভর্তি হন সেলিনা। রাত আটটার দিকে চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করে একটি ছেলে বাচ্চা বের করেন।

শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বাচ্চাটি মারা যায়। পাশাপাশি সেলিনাও অসুস্থ হতে থাকেন। পেটের ব্যাথা বাড়তে থাকে। রবিবার সকালে চিকিৎসকের পরামর্শ মত ফের আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। তাতে দেখা যায়, আরেকটি বাচ্চা রয়েছে সেলিনার পেটে।

তবে রবিবার বিকাল পাঁচটার দিকে সেলিনার দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করেন রিজিয়া আলম। কিন্তু পেট কেটে দ্বিতীয় কোন শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্কাস ম-ল বলেন, ‘প্রথম বারের অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে যে দুটি আলট্রাসনোগ্রাম করা হয় তার প্রতিবেদন সঠিক ছিল না। যদিও আলট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদনে পেটে কিছুর অস্তিত্ব দেখা গিয়েছিল।’

চিকিৎসক রিজিয়া আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেলিনার শরীরে অস্ত্রোপচার নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সবই স্বাভাবিক ভাবে হয়েছে।’