আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা বিশ্বা করি; আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে চলে আসা রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে যে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছি তার ভিত্তিতেও সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সদস্যযুক্ত ৩১টি ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের জন্য চেক হস্তান্তর করা হয়।

চেক গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক কল্যাণে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস সব সময় এগিয়ে আসে। সাম্প্রতিক বন্যার সময়ও তারা জনগণের পাশে ছিল। এখন মিয়ানমার থেকে অত্যাচারিত হয়ে যারা বাংলাদেশে এসেছে, তাদের সাহায্যেও এগিয়ে এসেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেমন অত্যাচার করেছিল, রোহিঙ্গারাও একই রকমের অত্যাচারের শিকার। ওই সময় তিন কোটি বাঙালি গৃহহারা হয়েছিল আর এক কোটি শরণার্থী হয়েছিল।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের বাইরে শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় নেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরাও শরণার্থী ছিলাম, তাদের দুঃখ আমরা বুঝি।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এই বিপুল সংখ্যক মিয়ানমার নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই ধরনের বিপদে মানুষ মানুষের পাশে না দাঁড়ালে সেটা হবে অমানবিক।’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এই বিপুল সংখ্যক মিয়ানমার নাগরিকদের সাহায্যে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এগিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের মানবিক গুণ আছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সাহায্য নিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এই বিপুল সংখ্যক মিয়ানমার নাগরিকদের সাহায্যে সশস্ত্র বাহিনী, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ করার কথাও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে নিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেখানে বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টারসহ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।’

জঙ্গিবাদকে সারা বিশ্বের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখানেও জঙ্গিবাদের ঘটনা ঘটেছিল। আমরা তা দমন করেছি।’