আলমডাঙ্গায় বাবর আলী অপহরন : ৪ দিনেও কোন সন্ধান মেলেনি

হাবিবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নগরবোয়লিয়া গ্রামের বাবর আলীর অপহরণের ৪ দিন অতিবাহিত হলেও কোন সন্ধান মেলানো যায়নি। বাবর আলীর উৎকণ্ঠিত পরিবার লোকজন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আলমডাঙ্গা শহরের রেল স্টেশনের নিকট থেকে গত (১৮ জুলাই) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। অপহরণের পর মোবাইলে দাবীকৃত ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিকাশে ২০ হাজার টাকা দিয়েছে বলে তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। জানা গেছে, আলমডাঙ্গার নগরবোয়ালিয়া গ্রামের মৃত আলী আক্তারের ছেলে বাবর আলী (৪৭) গত (১৮ জুলাই) মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে ভ্যানেযোগে হাটবোয়ালিয়া বাজারে যায়। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তার মোবাইলফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।পরদিন (১৯ জুলাই) বুধবার সকাল ৯ টার দিকে বাবর আলী অপহৃত হয়েছেন বলে তার ছেলের মোবাইলফোনে কল দিয়ে দুর্বৃত্তরা তার পরিবারের কাছে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই টাকা দিলে তাকে আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের নিকটে ছেড়ে দেয়া হবে বলে ফোনে জানানো হয়।
উৎকণ্ঠিত বাবর আলীর পরিবার ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপহরকদের দেয়া ০১৮৬৬৯৪৭৬৩৯ নম্বর মোবাইলে ২০ হাজার টাকা বিকাশ করে দেয়। বিকাশে টাকা দেয়ার পর থেকে ওই মোবাইলফোন বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে অপহৃতের পরিবার আর কোনভাবেই অপহরকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। গত (২০ জুলাই) বৃহস্পতিবার সকালে শেষবারের মতো বাবর আলীর এক আতœীয় বারব আলীর মোবাইলফোনে কল দিলে অজ্ঞাত ব্যক্তি তা রিসিভ করেন। তিনি যশোরের হোটেল আমজাদিয়ার ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে মোবাইলফোন নম্বরটি তার নিজের বলে দাবি করেন। ওই একবারই সে নম্বরটি খোলা পাওয়া গিয়েছিলো। তারপর থেকে সেটিও বন্ধ বলে অসহায় পরিবারটির দাবি।অপহৃত বাবর আলীর ছেলে সোলায়মান হক বলেন, এ অপহরণ বিষয়ে গত (২০ জুলাই) বুধবার রাতে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু ইতোমধ্যে অপহরণের ৪ দিন (মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার) পার হতে চললেও পুলিশ বিষয়টির কোন কুলকিনারা করতে পারেনি। ফলে তারা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকরাম হোসেন জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার তৎপরতা প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোন সময় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।