আমরা অনেকটা সফল: ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুষ্ঠু নির্বাচনসহ যেসব দাবি করেছিলেন তাতে অনেকটা সফল বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব দাবি আদায় হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে তাদের পাঁচ দফা দাবির কোনটা পূরণ হয়েছে তা তিনি উল্লেখ করেননি।

রবিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। ‘ভোটের অধিকারের দাবিতে’ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

সরকারবিরোধী দলগুলো নিয়ে সম্প্রতি একটি ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলো তার সঙ্গে রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে সংসদ ভেঙে দেয়া, ইভিএম ব্যবহার না করা, আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন ইত্যাদি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবির কোনোটি মানার ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

তবে ড. কামাল মানববন্ধনের বক্তৃতায় বলেন, ‘অলরেডি আমরা আমাদের দাবির অনেকটা সফল হয়েছি। দাবি আদায় করতে হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হয়, সেটা অতীতে আমরা দেখেছি। আমাদের সুষ্ঠু ভোটের দাবি আদায় করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এবারও সম্ভব হবে। জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের আন্দোলন করতে হবে।’

দেশের মালিকানা জনগণের কাছে না থাকলে লুটপাট হয় এমন মন্তব্য করে কামাল হোসেন বলেন, ‘একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের ভোটে সরকার হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, তখন লুটপাট হবে না।’

প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, এদেশ আমাদের সবার। কোনো ব্যক্তির না, কোনো দলের কিংবা পরিবারের না। অতীতে যেমন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সফল হয়েছে, এবারও হবে। জনগণের মালিকানা তার কাছে ফিরে আসবে। জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা হবে, যার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ আমাদের বঞ্চিত করতে পারবে না।’

ড. কামাল বলেন, ‘জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাদের আন্দোলন। দেশে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না। জনগণের সরকার না হলে কোনো জবাবদিহিতা থাকে না। আর জবাবদিহিতা না থাকলে পাইকারি হারে ‍লুটপাট হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চুরি হয়, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুটপাট হয়। শেয়ার বাজার থেকে লুট হয়। এই টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হয়, এ কারণে দেশে কোনো কর্মসংস্থান হয় না।’

ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন মানুষের ভোটের অধিকারের, ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন দুর্নীতিতে আজ মানুষ অতিষ্ঠ। এসব কারণেই আজকে সাধারণ মানুষ আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ বুঝে গেছে, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশাসনের পরিবর্তন আনতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি সফল হবে।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার গঠন করতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্বাচনের আগে সব রাজবন্দির মুক্তি দিতে হবে। নির্বাচনের আগে আর নতুন করে কোনো মামলা দেয়া হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এগুলো করতে হবে। এসব দাবি করার পরও হাজার হাজার গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে।’

‘এসব দাবি আদায় করতে ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সবাই মিলে দাবি করলে সফল হবে। আমাদের বাংলাদেশ অসাধারণ সম্ভাবনাময় দেশ। এই দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়তে পারলে আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।’

ড. কামাল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমাদের এই আন্দোলন অবশ্যই সফল হবে। এই দেশের মানুষ এই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। কোনো দাবি আদায় করতে হলে ঐক্যবদ্ধ জনগণের শক্তি দিয়ে সেটা আদায় করা যায়। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব কয়টা আন্দোলনে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা হোক এটা তো অসম্ভব কিছু না।’

‘সংবিধানে আছে এদেশের মালিক জনগণ, আপনারা কি মালিক আছেন? সবাই নিজেকে অসহায় বোধ করে। মালিকানা রাখতে হলে মালিকের ভূমিকা রাখতে হবে। এই কারণে রাখতে হবে, আমরা দেশে সরকার গঠন করবো, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘আজকে বোঝা যাচ্ছে ১৬ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবর্তন আনবে। পরিবর্তন আনবে, এই কারণে আমরা দাবি দিচ্ছি নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশের। কারণ আমরা মনে করি পরিবর্তন আসতে হলে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করে আমরা জনগণের ঐক্য প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত।’

মানববন্ধনে গণফোরামের মহাসচিব মোস্তফা মনোয়ার মন্টু, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তফা আমিন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ, ঐক্য প্রক্রিয়ার ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।