আপেলের বীজ পেটে গেলে মৃত্যুও হতে পারে

স্বাস্থ্য ডেস্ক : আপেল আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এটা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা যে আপেল যতটা উপকারী, আপেলের বীজ ঠিক ততটাই ক্ষতিকর? এমনকি আপেলের বীজ আমাদের শরীরে বিষক্রিয়াও করতে পারে!

আপেলের বীজে বিষ। এই তথ্য জেনে রাখা খুবই জরুরি। কারণ, আপেল খাওয়ার সময় আমরা মোটেই খেয়াল রাখি না যে বীজ পেটে যাচ্ছে কিনা। জিভে পড়লে তখন ফেলে দিলেও, বেশির ভাগ সময়েই আপেল খাওয়ার সময়ে বীজ পেটে চলে যায়।

দিনে ২-৩ টা আপেল খাওয়ার সময়ে সব বীজ পেটে চলে গেলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে। আপেলের বীজ পেটে গিয়ে সায়নাইড তৈরি করে। শরীরে চিনির সঙ্গে মিশে হাইড্রোজেন সায়নাইডে পরিণত হয়। এই হাইড্রোজেন সায়নাইডের ফলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সায়ানাইড শরীর প্রবেশ করার পর কী করে?

সায়ানাইড নামক বিষটির সঙ্গে সহজেই পরিচয় ঘটবে আপনার। মানুষের তৈরি সবথেকে ভয়ংকর বিষদের তালিকায় সায়ানাইডের স্থান একেবারে ওপরের দিকে। এই বিষকে কাজে লাগিয়ে অনেক মহান ব্যক্তিত্ব নিজেদের প্রাণ দিয়েছিলন। যে তালিকায় গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস থেকে শুরু করে মিসরীয় সুন্দরী ক্লিওপেট্রার নামও রয়েছে। রয়েছে হিটলার এবং তার বান্ধবী ইভা ব্রাউন, হেনরিচ হিমলার সহ আরও অনেকে। এই বিষটি এত জনপ্রিয়তা পাওয়ার পেছনে একটাই কারণ রয়েছে, তা হলো এটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র মৃত্যু ঘটে। কষ্ট পাওয়ার কোনো সুযোগই মেলে না। এককথায় `সুইট ডেথ`। সেই সায়ানাইডই রয়েছে আপালের বীজে।

অল্প পরিমাণ সায়ানাইডও কী প্রাণঘাতক?

বিজ্ঞানীরা লক্ষ করে দেখেছেন প্রায় ২০০টা আপেলের বীজ শরীরে প্রবেশ করলে তবেই মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা থাকে। তবে তাই বলে ভাববেন না যে ১-২টা শরীরের প্রবেশ করলে কিছুই হবে না। এ ক্ষেত্রে মৃত্যু না ঘটলেও একাধিক শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন মাথা ঘোরা, মাথা যন্ত্রণা, বমি, পেটে যন্ত্রণা, দুর্বলতা প্রভৃতি।

তাহলে কতটা সায়ানাইড বিষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে?

এ ক্ষেত্রে বডি ওয়েট একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তবে নির্দিষ্ট করে বললে ০.৫-৩.৫ গ্রাম প্রতি কেজি অনুসারে খেলে মৃত্যু ঘটবেই ঘটবে। প্রসঙ্গত, ১ গ্রাম আপেলের বীজে প্রায় ০.০৬-০.২৪ এম জি সায়ানাইড তৈরি হয়। এবার আপনি নিজেই হিসেব করে নিতে পারেন আপেলের বীজ কতটা ক্ষতি করতে পারে।