আপনারা আছেন কি ঘোড়ার ডিমের জন্য: রব

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে তার উদ্দেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছন, ‘তফসিল ঘোষণার পর যদি আপনাদের দায়িত্ব হয় তাহলে তিন মাস আগে নির্বাচন কমিশন করলেই হয়। এখন আপনারা আছেন কি ঘোড়ার ডিমের জন্য?’

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ঐতিহাসিক ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঐতিহাসিক ৩রা মার্চ ’৭১ উদযাপন কমিটি।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছেন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন নীরবতা পালন করছে অভিযোগ করে বিভিন্ন মহল থেকে তার সমালোচনা করা হচ্ছে। এর জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার গতকাল শুক্রবার বলেন, তফসিল ঘোষণার পর তাদের দায়িত্ব। তার আগে নয়।

আ স ম রব বলেন, ‘যদি তফসিল ঘোষণার পরেই ওনার (সিইসি) ক্ষমতা হয়, তাহলে পাঁচ বছরের জন্য উনি কেন আছেন? আপনার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে না সব দলের নির্বাচন ওনারা (সরকার) চায়। ৫ জানুয়ারির মতো আর একটা নির্বাচন করতে চায় তারা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভোট চাওয়ার সমালোচনা করে রব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা নিয়ে, স্কুল-কলেজ ছুটি দিয়ে জনসভা করে দেশে-বিদেশে একটা দলের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন বলতে পারে না যে, এটা অনৈতিক। বলছে তফসিল ঘোষণার পরে তাদের দায়িত্ব। তাহলে আপনি (সিইসি) কি গাব দিতে আছেন এখানে?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে রব দেশে এক ব্যক্তির স্বৈরশাসন চলছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘দেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এক ব্যক্তির স্বৈরশাসন, ফ্যাসিবাদ কায়েম। এক ব্যক্তির দেশ, এক ব্যক্তি মালিক। মন্ত্রিসভা ও সংসদের ক্ষমতা নেই। এক ব্যক্তি যা ইচ্ছা তাই করবে?’

বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধার সমালোচনা করে সরকারের উদ্দেশে জেএসডির প্রধান বলেন, ‘বিরোধী দলকে রাস্তায় দাঁড়াতে দিচ্ছেন না। সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দেবেন না। মিছিল করার সুযোগ দেবেন না। রাজনৈতিক দল যদি জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে না পারে, পথচলার সিদ্ধান্ত দিতে না পারে ওই রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নাই।’ তবে এখন দেশে কোনো রাজনীতি হচ্ছে না, রাজনীতি করাও যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনে তৎকালীন ছাত্রনেতৃত্বের চার ‘খলিফা’র একজন রব বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে রাজনীতি করেছি। পুলিশ আমাদের লাঠিপেটা করেছে, টিয়ার গ্যাস ছেড়েছে, গরম পানি মেরেছে, লাল পানি ছেড়েছে, গুলি করেছে; কিন্তু পিঠের ওপর বুট দিয়ে লাথি মারা, শান্তিপূর্ণ পতাকা প্রদর্শনে গলা চিপে দেয়া এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র? মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্দোলন হয়েছে। এটা গণতন্ত্র, বুট দিয়ে লাথি মারা নয়।’

বিরোধী দলকে ঘরের মধ্যে সভা-সমাবেশ করতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পরামর্শের সমালোচনা করেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক। পল্টনের জনসভা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বায়তুল মোকাররমে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, মক্তাঙ্গন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, মানিক মিয়া এভিনিউতে রাস্তা দুই ভাগ করে দেয়া হয়েছে, যাতে জনসভা আর না করা যায়। বলেন তিনি।

রব বলেন, বিরোধী দলের মিছিল-মিটিং করার জন্য পারমিশন প্রয়োজন হয়। শুধু সরকারি দলের জন্য হয় না।

শাহজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সচিব ব্যারিস্টার শুক্লা সারওয়াত সিরাজের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, কবি আল মুজাহিদী, বেগম রাবেয়া সিরাজ, বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার্স সমিতির আহ্বায়ক কামাল সিদ্দিকী প্রমুখ।