আপনারা অহেতুক ঘাঁটাঘাঁটি করছেন: মজহারের স্ত্রী

নিজস্ব প্রিতবেদক : কবি ও লেখক ফরহাদ মজহার ‘অপহরণ’ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহা পরিদর্শক –আইজিপি যেসব বক্তব্য রেখেছেন, সেসবের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চান না আলোচিত-সমালোচিত এই লেখকের স্ত্রী ফরিদা পারভীন। বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা অহেতুক ঘাঁটাঘাঁটি করছেন।
বৃহস্পতিবার আইজিপি সংবাদ সম্মেলন করে আলোচিত এই অপহরণ মামলার তদন্তে পাওয়া সব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ভিডিও রেকর্ড ও মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে আমাদের কাছে এ পর্যন্ত প্রতীয়মান হচ্ছে, উনি অপহৃত হননি, উনি স্বেচ্ছায় গেছেন।’
কথিত অপহরণের দিন ফরহাদ মজহার তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারকে ১০ বার এবং অন্য এক নারীকে ছয় বার কল করেন বলেও জানান আইজিপি। তার দাবি, তিনি অপহরণ হয়েছেন-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্য থামানোর কথাও বলেছিলেন তিনি।
পুলিশ প্রধানের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে ফরিদা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তবে তিনি কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।
ফরিদা আক্তার বলেন, ‘আপনারা এটা নিয়ে অহেতুক ঘাঁটাঘাঁটি করছেন, যা আমার কাছে খুব খারাপ লাগে।’
পুলিশ জানিয়েছে, আপনাকে ফোন করে ফরহাদ মজহার তাকে অপহরণের প্রচার থামাতে বলেছিলেন। এটা কখন হয়েছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে ফরিদা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।’
গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বেশ কিছু গণমাধ্যমে কথিত অপহরণের দিন ফরহাদ মজহার ও ফরিদার মধ্যে কথোপকথনের একাংশ ছড়িয়েছে। এই কথোপকথনের বিষয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি ফরিদার কাছে। তিনি বলেন, ‘যারা এগুলো প্রচার করছে, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন। এসব নিয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না।’
ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোরে ঢাকার শ্যামলীর রিং রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে অপহৃত হন বলে তার স্ত্রী ফরিদা আখতার আদাবর থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ফরহাদ মজহার তার ফোন থেকে তাকে পাঁচবার কল করেছেন। ফরহাদ মজহার বলেছেন, তার অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে।
ওই দিন শেষে রাতে খুলনা থেকে ঢাকাগামী একটি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে পরদিন তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। আদালতে জবানবন্দি শেষে তিনি ঢাকার বারডেম হাসপাতাল ভর্তি করা হয়।