আদালতে হাজির হননি ‘অসুস্থ’ খালেদা

আদালত প্রতিবেদক : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানিতে আজ বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার দিন ধার্য থাকলেও তাকে আদালতে আনা হয়নি। কারাবন্দী খালেদা জিয়া অসুস্থ, তাই তাকে আদালতে আনা যায়নি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান। আদালত খালেদা জিয়ার হাজিরের জন্য আগামী ২২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে।

গত ২৮ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান কারা কর্তৃপক্ষকে ৫ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন।

এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় দুদকের পক্ষ থেকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়। দুদকের করা ওই আবেদনের ওপর ২৬ ফেব্রুয়ারি শুনানি হয়। ওই দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির বিরোধিতা করেছিলেন। শুনানি শেষে ১৩ মার্চ আদালত খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার আদেশ দেন। ২৮ মার্চ খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরের দিন ধার্য থাকলেও অসুস্থতার কারণে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে হাজির করেনি।

দুদকের প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল আজ (৫ এপ্রিল) আদালতকে জানান, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ নন। এছাড়া আগামী কার্যদিবসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে যুক্ত করে বিচারকার্য চালানোর অনুরোধ করেন তিনি।

খালেদার অসুস্থতার বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর বলেন, খালেদার শারীরিক পরীক্ষার জন্য যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল তাদের দেয়া ওষুধ তিনি গ্রহণ করছেন না। তাই তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাকার্য চালাতে প্রক্রিয়া চলছে।

গত ৩০ জানুয়ারি এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ সাত বছর কারাদণ্ড দাবি করে দুদক প্রসিকিউশন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু হয়।

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলায় অপর আসামিরা হলেন- তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করে আদালত। এরপর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

Inline
Inline