আত্রাই-ভবানীগঞ্জ সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে জনদুর্ভোগ চরমে

রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর আত্রাই-ভবানীগঞ্জ সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দে ভরে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। দীর্ঘদিন থেকে সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে বেহাল দশা হয়ে থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
আত্রাই-ভবানীগঞ্জ সড়ক একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। রাজশাহী বিভাগীয় শহরের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগের জন্য এলাকাবাসীর এ সড়কের বিকল্প কোন পথ নেই। আত্রাই উপজেলাসহ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাজার হাজার লোকজন প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বাস, ট্রাক, ট্রলি, সিএনজি, অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেলসহ ছোট বড় বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচল করে। সড়কের বাগমারা অংশের সংস্কার কাজ হলেও আত্রাই অংশে ৫ কিলোমিটারের মত সড়ক দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে। সামান্য বৃষ্টি হলে এসব খানাখন্দে পানি জমে থাকায় যানবাহনের চাকার পানিতে পথচারীদের পোষাক পরিচ্ছদ বিনষ্ট হয়ে যায়। এ নিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন এলাকার হাজার হাজার পথচারী। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আহসান উল্লাহ মেমোরিয়াল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীদের এ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। এসব শিক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ সড়কে অটো চালক মিল্টন বলেন, রাস্তার এ দুর্দশার কারণে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তায় গাড়ি চালাই। এখানে গাড়ি চালাতে গিয়ে একদিকে সময়ের অপচয় অপরদিকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ প্রায়ই নষ্ট হয়ে গাড়িরও অনেক ক্ষতি সাধিত হয়। সালেহা ইমারত ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রুহুল আমিন বলেন, প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে আত্রাই থেকে আমার কলেজে যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিন থেকে রাস্তাটির যে দুরাবস্থা তাতে মনে হয় দেখার কেউ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারি টিপু সুলতান বলেন, প্রায় দিনই রোগী নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে আমাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তাটির প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় এ রাস্তা দিয়ে যাবার সময় রোগীর সাথে আমাদেরকেও রোগী হয়ে যেতে হয়। এ ব্যাপারে নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, সড়কটি সংস্কারে বরাদ্দ পাশ হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যে দরপত্র আহ্বানের মধ্যদিয়ে কাজ শুরু করা হবে।