আত্রাইয়ে পাট চাষে আগ্রহ কমেছে কৃষকদের

রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা : সোনালী আঁশের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ, আর সেই সোনালী আঁশ হল পাট। এক সময় বিশ্বে পাট উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো দ্বিতীয়। কিন্তু এখন আর সেই ঐতিহ্য নেই বাংলাদেশের। পাট উৎপাদনে অনেক পিছিয়ে গেছে এই সোনালী আঁশের দেশ। বছরের পর বছর দেশের আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পাট চাষিদের ওপর। বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায় এক সময়ে এদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল সোনালী আঁশ হিসাবে খ্যাত পরিবেশ বান্ধব পাটের চাষ। বর্তমানে এই পাট চাষে উপজেলার কৃষক দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে এবার পাটের ভরা মৌসুমেও পাট মিলেনি উপজেলার হাট বাজার গুলোতে। এ দিকে পাট চাষে আগ্রহ হারানোর পেছনে প্রতি বছর বাজারে পাটের মূল্য দর পতনকেও এর জন্য দায়ী করছেন চাষিরা।
সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে পাটের মূল্য দরপতন, উৎপাদন খরচ বেশি ও পাট পঁচানো পানির অভাবেই কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ৬০ এর দশকে দেশের খ্যাতমান পাট ক্রয় কেন্দ্র ছিল নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। এক সময় উপজেলার র‌্যালী ব্রাদার্স নামে বিখ্যাত সেই পাট ক্রয় কেন্দ্রে পাট ক্রয় করে তা আবার নৌপথে পাঠানো হত দেশ বিদেশের বিভিন্ন জুট মিলে। সেসময় সরকারী ও বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন শত শত টন পাট ক্রয় করা হত চাষীদের নিকট থেকে। ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিয়ে কৃষকেরাও ঝুঁকে পড়তে ব্যাপকহারে পাট চাষে। আত্রাই থেকে এ পাটগুলো দেশের দক্ষিণা অঞ্চলের জেলা খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন জুট মিলে নৌপথে ও রেলপথে নিয়ে যাওয়া হত। জনশ্রুতি আছে শুধু দেশেই নয় বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে আকাশ পথে আত্রাই এর পাট রপ্তানি করা হত সেই ইংল্যান্ডে। সেই সময় মালবাহী উড়োজাহাজযোগে আত্রাই পাট ক্রয় কেন্দ্র থেকে সরাসরি এই পাট লন্ডনে রপ্তানি করা হত। বর্তমানে আর এ উপজেলার কৃষকেরা আগের মতো পাট চাষও করেনা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার এ উপজেলায় মাত্র ১২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। পাটের মূল্য কমসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে কৃষকেরা পাট চাষে এবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এ দিকে পাটের চাষ কম হওয়ায় জ্বালানী কাজে ব্যবহার্য পাট খড়ির মূল্য আকাশচুম্বি হয়েছে। ফলে মধ্যম আয়ের পরিবারে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি।
উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ৬০ এর দশকে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে আত্রাই ছিল পাটের জন্য বিখ্যাত। সে সময় আমরা ব্যাপক হারে পাট চাষ করতাম। পাটের ন্যায্যমূল্যও পেতাম। বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশি, মূল্য কম এ জন্য আমরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।
উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ মন্ডল বলেন, গত দু’বছর থেকে পাট চাষ করে পাট পঁচানো পানির অভাবে আমাদের চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। এ জন্য এবার আমি পাট চাষ করিনি। ওই জমি গুলোতে এবার ধানসহ অন্যান্য আবাদ করে আমি লাভবান হচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কে এম কাউছার হোসেন জানান, বিগত বছর গুলোতে পাটের বাজার মন্দা থাকায় এই ফসলের প্রতি চাষিদের আগ্রহ কমে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবেশবান্ধব পাটের মোড়ক বহুবিদ ব্যবহার করায় বর্তমান পাটের উৎপাদন ও বাজার দর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় এবার প্রান্তিক পর্যায়ে চাষিদেরও পাট চাষের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষে চলতি জরিপ মৌসুমে চাষীদের রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে কৃষকদের গঠনমূলক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Inline
Inline