আত্রাইয়ে আড়াই শতাধিক পুকুরের মাছ ও প্রায় ১১হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে

রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর আত্রাইয়ে এবারের বন্যায় আড়াই শতাধিক পুকুর ডুবে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। বন্যা শুরুর দিকে বিলাঞ্চলে পানি ঢুকতে না পারায় নদীর তীরবর্তী পুকুরগুলো বেশি ডুবে। কিন্তু একের পর এক বাঁধ ভাঙ্গনের ফলে উপজেলা ৮ ইউনিয়নের সব মাঠ প্লাবিত হয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পরে। ফলে উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মধ্যে হাটকালুপাড়া, কালিকাপুর, শাহাগোলা, পাঁচুপুর, আহসানগঞ্জ ও বিশা ইউনিয়নের প্রায় আড়াই শতাধিক পুকুর ডুবে যায় এবারের বন্যায়। এতে করে ওইসব পুকুরের প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ ভেসে যায়।
জানা যায়, গত এক সপ্তাহেরও বেশি আগে অবিরাম বর্ষণ ও উজানের পানিতে আকষ্মিকভাবে ফুঁসে উঠে আত্রাই নদী। নদীর পানিতে তলিয়ে যায় প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পরে হাজার হাজার মানুষ। নদীর পানির তীব্রতায় একের পর এক বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। গতকাল সোমবার এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত আত্রাই নদীর পানি সামান্য পরিমান কমলেও বৃদ্ধি পেয়েছে বিলাঞ্চলের পানি। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ওইসব এলাকার মাঠের ফসল ও পুকুর ডুবে গেছে। জানা যায়, উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নে ৫০ টি, কালিকাপুর ইউনিয়নে ইউনিয়নে ৪২ টি, শাহাগোলা ইউনিয়নে ৬৮ টি, পাঁচুপুর ইউনিয়নে ২৫ টি, আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে ১৫ টি ও বিশা ইউনিয়নে ৩৮ টি পুকুর ডুবে গেছে। এসব পুকুরে নেট দিয়ে প্রতিবন্ধকতার চেষ্টা করা হলেও পুকুরগুলোর প্রায় সব মাছই ভেসে গেছে। ফলে প্রায় দেড়কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। কালিকাপুর ইউনিয়নের আটগ্রামের আলাউদ্দিন বলেন, আমার তিনটি পুকুর ডুবে গেছে। এই তিন পুকুরে লক্ষাধিক টাকার মাছ চাষ করেছিলাম। পুকুর ডুবে মাছ ভেসে যাওয়ায় আমি চরম আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। উপজেলা মৎস্য অফিসার আনোয়ারুজ্জামান বলেন, আকষ্মিকভাবে বন্যা হওয়ায় পুকুর মালিকরাও সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেননি। আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করছি। দেখা যাক তাদেরকে কোন সহায়তা করা যায় কি না। আত্রাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,বন্যায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১১হাজার হেক্টর জমির আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা সাহেবগঞ্জ সরদার পাড়ার কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমি চলতি মৌসুমে ৪বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছিলাম যা বন্যা পানিতে আমার সব জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আমি চরম আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।মালিপুকুর গ্রামের কৃষক আজাদ বলেন, আমার ৮বিঘা জমির আমন ধান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে সস্পুর্ন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আমি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি।