আত্রাইয়ে অর্ধশতাধিক মানুষ পানিবন্দী

রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের কষ্ট বেড়েই চলেছে। নদীর পানি কিছুটা কমলেও বন্যা কবলিত অনেক এলাকায় দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় সরকারি ত্রাণ পৌছাতে না পারায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অনাহারে থাকতে হচ্ছে অনেক বানভাসী মানুষকে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। নওগাঁর আত্রাইয়ে গত কয়েকদিন থেকে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানি হুহু করে বেড়ে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে একদিকে নদী এলাকার শত শত জনবসতি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অপরদিকে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। পরিবার পরিজন ও গবাদী পশু নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। চারদিক জলাবদ্ধতার কারনে কোন কাজকর্ম করতে না পারায় চরম অভাবে দিন কাটাচ্ছেন এসব এলাকার মানুষ। এদিকে গত সোমবার উপজেলার মালিপকুর নামক স্থানে আত্রাই-সড়ক ভাঙ্গার সাথে সাথে সিংড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে রোগবালায় খাদ্য ও ঔষধ সঙ্কট।
ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী রানীনগর উপজেলার মালঞ্চী ও ঘোষগ্রামের তিনটি স্থানে ভাঙ্গার ফলে নওগাঁ জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং প্রবলবেগে যমুনা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে শাহাগোলা ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকার হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। নওগাঁ-আত্রাই সড়ক ভাঙ্গনের কারনে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরুপে বিচ্ছিন্ন থাকায় সল্পকিছু সিএনজি, ভুটভুটি, চার্জার ভ্যান বিপরীত পথ শাহাগোলা হয়ে রানীনগর দিয়ে নওগাঁ জেলা শহরে চলাচল করলেও অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে বলেও যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে বন্যার ফলে উপজেলার শাহাগোলা, কালিকাপুর, আহসানগঞ্জ, পাঁচুপুর, হাটকালুপাড়া ও মনিয়ারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামের, ঘরবাড়ি, স্কুল, কলেজ, মন্দিও, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চলতি রোপা আমন ধান থৈ থৈ পানিতে ভাসছে। সাথে সাথে শতাধিক মাছ চাষির পকুর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার কয়েকটি স্কুল ডুবে যাওয়ায় ওই সকল স্কুলে লেখাপড়া কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এবিষয়ে ১নং শাহাগোলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম বাবু জানান, আত্রাই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে আমাদের শাহাগোলা ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ইউনিয়নের উদনপৈয়, মিরাপুর, ফুলবাড়ি, পূর্বমিরাপুর, রসুলপুর, জাতোপাড়াসহ বেশ কয়েকটা গ্রামের মানুষ এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। তিনি আরো জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এক টন পরিমান ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছি তা সকলের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তবে তিনি আরও বেশি করে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এব্যাপারে নাগরিক উদ্যোগের শাহাগোলা ইউনিয়নের দলিত মানবাধিকার কর্মী শ্রীঃ দিনেশ কুমার পাল বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। সেই সাথে বানভাসি পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং ত্রাণ তৎপরতা সচল রাখতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে আত্রাই কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত বন্যার পানিতে দ্রুত তলিয়ে গেছে আত্রাই উপজেলার প্রাই ২ হাজার হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসল।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেছি। বানভাসী মানুষদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সেই সাথে স্থায়ীভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আত্রাই উপজেলার বন্যার্ত বানভাসী মানুষের মাঝে যে পরিমান ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন অসহায় বানভাসী মানুষেরা।