আত্রাইয়ের হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে মধু মাসের আধা-পাঁকা ফল

রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার হাট-বাজারে পাঁকা আম না দেখা গেলেও উঠতে শুরু করেছে আধা পাঁকা দেশী প্রজাতির লিচু। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাজারে এসব লিচু বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে লিচুর দাম কম থাকায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম।
এ মধু মাসে এখন গাছে গাছে লিচুর সমারোহ। পাঁকা লিচুর সুগন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন বাড়িতে ও বিভিন্ন লিচুর বাগানগুলো। মৌমাছিরা ও লিচুর ঘ্রাণ নিতে বাগানে ভোঁ ভোঁ শব্দ করে এ ডাল থেকে ও ডালে উড়ে বেড়াচ্ছে। এ যেন মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য। রসে টইটম্বুর। স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়, খেতে সুস্বাদু, আকারে গোলাকার, বাতাসের তালে, গাছের পাতার ফাঁকে লাল হয়ে দুলছে আর দুলছে। দেখে যেন জিভে জল এসে যায়।
উপজেলার গাছ মালিক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের সুস্বাদু লিচু মধু বৈশাখের ১৫ থেকে শুরু হলেও জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথমেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন জাতের লিচু। দেশী প্রজাতির বোম্বে ও অন্যান্য লিচু বাজারে উঠার অপেক্ষায় রয়েছে।
সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর অতিমাত্রায় ঝড় বৃষ্টিপাতের কারণে বহু বাগানে লিচুর গুটি ঝরে যাওয়ার পরও বাম্পার ফলন হবে বলে আশা চাষিদের। এ আশায় বাগানমালিক ও বাগান ক্রেতা ব্যবসায়ীরা প্রচুর পরিচর্যা করেছে। লিচুর ফুল ও মুকুল আসা শুরু থেকেই তাদের গাছের গোড়ায়, ডাল ও আগায় পানি দিতে হয়েছে। গাছের খাবার হিসেবে জৈব ও রাসায়নিক সার এবং ফলগাছের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ স্প্রে নিয়মিত করতে হয়েছে।
আত্রাই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কমবেশি লিচুর গাছ রয়েছে। এসব গাছে এখন ছেয়ে গেছে মাদ্রাজি, চায়না, বোম্বাই, কাঁঠালি আর দেশী জাতের লিচুতে। বিগত বছরগুলোয় বাগান মালিকরা লিচু চাষে ব্যাপক লাভবান হওয়ায় এবারও অনেকে নতুন বাগান তৈরী করেছেন।
তবে কালবৈশাখী ঝড়ে বাগানগুলোতে লিচুর প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। চাষিরা ক্ষতির আশঙ্কা করছে। মাঝখানে তীব্র খরায় চায়না থ্রি, চায়না ফোর ও বোম্বে জাতের লিচু গাছে ফেটে গেছে। ফেটে যাওয়া রোধ করতে লিচু গাছে নিয়মিত পানি স্প্রে করেছিল চাষিরা।
জৈষ্ঠ মাসে প্রথম দিকে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। সবশেষে চায়না ও দেশী জাতের কাঁঠালি লিচু বাজারে আসছে। দেশী কাঁঠালি লিচু ও আঁঠি লিচু বর্তমানে বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা ‘শ’ বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হয় চায়না থ্রি ও চায়না ফোর জাতের লিচু।
উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের মিরাপুর গ্রামের মো: মুমিনুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া মোটামুটি লিচুগাছের অনুকূলে রয়েছে। ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আগাম বাগান কিনে রেখেছেন।
উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের মো: রফিকুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এবারে লিচু তার বাগানে অনেকটাই বেশি হয়েছে। ঝড়বৃষ্টি বেশি হওয়ায় ফলন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা বিষয়ে বর্তমানে সমস্যা নেই, তবে এবার আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে।
এ ব্যাপারে আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাউছার হোসেন জানান, আত্রাই উপজেলায় তেমন একটা লিচুর বাগান নেই তবে দিন দিন বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারও বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় দিন দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লিচু চাষ বাড়ছে।

Inline
Inline