আত্রাইয়ের ভবানীপুর হাটে প্রবেশের রাস্তাটি যেন মরণ ফাঁদ

রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) থেকে : নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর-মির্জাপুর হাটে প্রবেশের রাস্তাটি এখন যেন এলাকাবাসীর জন্য মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারী অভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি বেহাল দশায় রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত।রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাজস্ব আয় ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকার সচেতন মহল। উপজেলার ভবানীপুর বাজার একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার, এখানে সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার দুই দিন হাট বসে। এছাড়াও প্রতিদিন সকাল বিকেল হাট বসে। এখানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাপড় ব্যবসায়ী, আলু ব্যবসায়ী, রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী, কাঁচা মাল ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে প্রায় প্রতিদিন হাজার হাজার ক্রেতা আসেন এ বাজারে। আত্রাই-নওগাঁ পাকা সড়কের সাথে হাটটি হলেও শাহাগোলার দিক থেকে হাটে প্রবেশ রাস্তাটির ভবানীপুর পিএস ল্যাবরেটরি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুলের সংলগ্নে রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে মালবাহী পিক আপ ভ্যান, ট্রাক, কর্ভাড ভ্যান, সিএনজি, রিক্সা, অটোরিক্সাসহ ছোট বড় সব ধরনের যানবাহন। এতে করে ক্রেতারা জিনিস কিনে বা বিক্রেতারা সরবরাহ করতে গিয়ে ভাঙ্গা আর গতের্র কারনে মালামাল পরিবহন করতে মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখিন হচ্ছেন প্রতিনিয়ত এ এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। এ হাট থেকে প্রতি বছর সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা রাজস্ব আয় হলেও এ রাস্তাটি মেরামতে কর্তৃপক্ষের নেই কোন উদ্যোগ। ফলে দীর্ঘ দিন থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার হাজার হাজার জনসাধারণকে। ভবানীপুর জিএস উচ্চ বিদ্যালয়, ভবানীপুর পিএস ল্যাবরেটরি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুল ও ্ইক্বরা মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা এন্ড নূরানী স্কুলের শত শত কমলমতি শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তাটি ব্যবহার করতে হয়। এলাকা বাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী এ ভাঙ্গা স্থানটি সংস্কার হলে এলাকাবাসীর এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে। ছাত্র ছাত্রী সহ এলাকার সকল সাধারণ জনগন পাবে যোগাযোগের সুফল।এ ব্যাপারে ভবানীপুর জি এস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন, ভবানীপুর হাটে প্রবেশের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজির্ণ অবস্থায় আছে। এ রাস্তার উপর দিয়ে কোমলমতী ছাত্র-ছাত্রীর চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু দিন পরপর ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা। রাস্তাটি সংস্কার করা অতিব জরুরী।ভবানীপুর পিএস ল্যাবরেটরি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুলেরঅধ্যক্ষ শ্রী অভিজিৎ চৌধুরী জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য রাস্তাটি একমাত্র পথ। হাটের দিন ছাড়াও প্রতিদিনই জনসাধারণকে এ রাস্তা দিয়ে বাজারে আসতে হয়। বাজারে প্রবেশের প্রধান রাস্তাটি ভেঙ্গে জরাজীর্ণ হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণের জন্য উর্ধ্বোতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।ভবানীপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল গফুর খাঁন বলেন, বাজার বণিক সমিতির পক্ষ থেকে এ ভাঙ্গা রাস্তাটি মেরামতের জন্য আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ অনেকের কাছেই ধর্না দিয়েছি। সকলেই আশ্বস্ত করেন কিন্তু আজও মেরামত না হওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, এ রাস্তাটির ভাঙ্গা রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য এলজিডি প্রকৌশলী অধিদপ্তরেকে জানানো হয়েছে আশাকরি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কার পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন জানান, বিষয়টি আমি অবগত আছি। রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হবে। এদিকে বিরাজমান পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের স্বার্থে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকার সচেতন মহল।

Inline
Inline