আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, পর্দা উঠছে বিশ্বকাপের

ক্রীড়া ডেস্ক : অবশেষে ক্ষণ গণনা শেষ, আজ সেই দিন। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাশিয়া-সৌদি আরব ম্যাচ দিয়ে (৯টায়) রাতে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২১তম আসর। ম্যাচ শুরুর আধা ঘণ্টা আগে হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিশ্বকাপের থিমসংসহ রাশিয়ার ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকবে ৩০ মিনিটের অনুষ্ঠানে।

রাশিয়ায় বিশ্বকাপ চায়নি বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশ। তবে তখনকার ফিফা সভাপতি জোসেফ ব্লাটার ও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের দৃঢ় অবস্থানের কারণে পশ্চিমাদের বিরোধিতা শেষমেশ টেকেনি।এমনও অভিযোগ ওঠেছিল, আয়োজক হতে রাশিয়া নাকি ঘুষ দিযেছিল ব্লাটারকে। কিন্তু সেই অভিযোগও রাশিয়ার আয়োজক স্বত্ত্ব কেড়ে নিতে পারেনি। সব কিছু পেরিয়ে পরিচ্ছন্ন ও সফল একটি বিশ্বকাপ আয়োজনের দিকে এগিয়ে গেছে রাশিয়া। আর এখন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পুতিনের দেশ। মনে করা হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপ হবে এ যাবৎকালের সফলতম ও সেরা বিশ্বকাপ।

৩২ দল, ৮ গ্রুপ। প্রতি গ্রুপের সেরা দুটি দল খেলবে শেষ ষোলতে। এরপর আট দলের কোয়ার্টার ফাইনাল। দুই সেমিফাইনালের পর ১৫ জুলাই মস্কোর লিনঝিন স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল।১১টি শহরের ১২টি ভেন্যুতে মোট ম্যাচ ৬৪টি।

বিশ্বকাপ আয়োজনে রাশিয়ার খরচ হচ্ছে ৬৮৩ বিলিয়ন রুবল। ডলারের হিসাবে যা প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার। রাশিয়া যখন বিশ্বকাপের স্বাগতিক হওয়ার জন্য প্রস্তাব করেছিল তখন তারা বলেছিল, স্টেডিয়াম সংস্কার ও নির্মাণের কাজে তারা ব্যয় করবে ৩.৮২ বিলিয়ন ডলার। তবে সেটা বেড়ে খরচ হয়েছে ৪.৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের জন্য ব্যয় করেছিল ৫.২ বিলিয়ন ডলার। তবে ব্রাজিল গড়েছিল রেকর্ড। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ব্রাজিলের ব্যয় হয়েছিল ১৫ বিলিয়ন ডলার।

১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হলেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশটির অর্থনীতি দারুণ চাঙ্গা হয়ে উঠবে। প্রায় লাখ তিনেক ফুটবলপ্রেমী এখন রাশিয়ায়। প্রায় আড়াই লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়ার কারণে। আয়োজকরা আশা করছেন, বিশ্বকাপ আয়োজন করে অন্তত ১৮-২০ বিলিয়ন ডলার আয় হবে দেশটির।

বিশ্বকাপে চিরকালের ফেভারিট দল হচ্ছে ব্রাজিল। রাশিয়ায় বিশ্বকাপে সাম্বা নাচের দেশটি যেন আরো বেশি ফেভারিট হয়ে উঠছে। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের পারফরম্যন্স, বিশ্বকাপের আগে প্রতি ম্যাচে ফলও ঈর্ষা জাগানীয়া। সেরা দুই গোল কিপার তাদের। আছে বুলেট প্রুফ রক্ষণভাগ। আর নেইমার জেসুস, কুতিনহোর দিয়ে ফরওয়ার্ড প্রতিপক্ষ দলের জন্য রীতিমত ভীতিকর।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাশিয়াকে নিয়ে আনেক অনেক কথা হচ্ছে। ২০১৪ সালের সেই দলটির সঙ্গে যদিও এখনকার দলটির তুলনা চলে না। কেউ ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়েও রাখছেন জোয়াকিম লোর দলটিকে। হ্যাঁ, জার্মানি তো জার্মানিই। সেরা সময়ে না থাকলেও জার্মানির পাওয়ার হাউজ জ্বলে উঠলে ব্রাজিলের মতো হট ফেভারিট দলও উড়ে যেতে পারে যে কোনো পরিস্থিতিতে। ফুটবল বোদ্ধাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, জার্মান এই দলটি ভালো, কিন্তু গোল করবেন কে?

বাছাই পর্বে বাজে ফল, বুড়ো দল। ইত্যাদি যুক্তি দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফেভারিটের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন অনেকেই। এটা মেসির দলের জন্য প্লাস পয়েন্ট বটে। হট ফেভারিট হওয়ার যে চাপ, সেটা নেই। রাশিয়ায় নির্ভার থেকে খেলতে পারবে আর্জেন্টাইনরা। না, আর্জেন্টিকে ফেভারিট না ভেবে উপায় নেই। অন্তত যারা ফুটবল বোঝেন, তারা মেসিদের নিয়ে বাজি ধরলেও ধরতে পারেন।

২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ডার্ক হর্স বেলজিয়াম, শক্তিশালী ফ্রান্স, উরুগুয়ে আর রোনালদোর পর্তুগালকে নিয়ে শোরগোল হচ্ছে। কাগজে কলমেও তারা যথেষ্ট শক্তিশালী। বিশ্বকাপ জিতে নেওয়ার সামার্থ আছে এই দলগুলোরও।

মেসি, নেইমার, রোনালদোদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিকেও তাকিয়ে ফুটবল বিশ্ব।ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে কে হবেন সেরা? এই নিয়েও কৌতূহল সবার। অনেকেই মনে করছেন, এবার নেইমার ছাপিয়ে যেতে পারেন রোনালদো, মেসিকে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে দুটি প্রাকটিস ম্যাচেও সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। আবার মেসি, রোনালদো, নেইমারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো তারকাও যে আছেন। যেমন মিশরের মোহাম্মদ সালাহ, উরুগুয়ের লউস সুয়ারেজ, ফ্রান্সের গ্রিসম্যান।

এবারে বিশ্বকাপের বেদনার দিক হলো-ইতালি, হল্যান্ড, চিলি, ঘানা, আইভোরিকোস্ট, ক্যামেরুনের মতো শক্তিশালী ও দর্শকনন্দিত দলগুলোর অনুপস্থিত। ইতালি ও হল্যান্ডের না থাকাটা বিশ্বকাপের জৌলুস কিছুটা হলেও কমাবে বলে মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। সারা বিশ্বে এ দুটি দলের কোট কোটি সমর্থক রয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপের সময়সূচি বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বেশ আদর্শ। দিনের কাজবাজ শেষ করে সন্ধ্যায় বা রাতে টিভি সেটের সামনে বসে পড়তে পারবেন। বিকাল ৪টা, সন্ধ্যা ৬টা, ৭টা, রাত ৮টা, ৯টা, ১০টায় রয়েছে ম্যাচ। তবে দিনের শেষ ম্যাচটি দেখতে হলে রাত জাগতেই হবে। রাত ১২টায় হবে দিনের শেষ ম্যাচটি।

Inline
Inline