আগের আন্দোলনের ফল চিন্তা করুন: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল

সরকার পতনের আন্দোলনে নামার আগে ২০১৫ সালের আনেদালনের ফলাফল বিবেচনায় রাখতে বিএনপিকে পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বর্তমান সরকারকে অসম্মানজনক বিদায় দেয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘৭ মার্চের মহাকাব্য- বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তোফায়েল। ওই সেমিনারের আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডার ফোরাম।

এই সেমিনারে তোফায়েল মূলত বিএনপির আন্দোলনে নামার হুমকি এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে কথা বলেন।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আগের তুলনায় নমনীয় অবস্থানের আভাস ছিল বিএনপির। কিন্তু সম্প্রতি আবারও আগের অবস্থানে ফিরে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার কথা বলছেন দলটির নেতারা। গত সোমবার বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দুটি পথ আছে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার। একটা হলো সম্মানজনকভাবে বিদায় নেয়া। আরেকটি হলো একেবারে অপমানিত-লাঞ্ছিত এবং একেবারে অসম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করা বা সরকার থেকে চলে যাওয়া। প্রধানমন্ত্রীকে এখন পছন্দ করতে হবে, কোনটা উনি চান। যদি উনি সম্মানের সঙ্গে যেতে চান, তাহলে সমঝোতায় আসতে হবে।’

জবাবে তোফায়েল মওদুদকে ২০১৫ সালের সরকার পতনে বিএনপির ‘চূড়ান্ত’ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেন। ওই বছরের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে সরকার পতনের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাকেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পরে অবরোধের পাশাপাশি ডাকা হয় হরতাল। এক পর্যায়ে অকার্যকর হয়ে পড়া অবরোধ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেয়নি বিএনপি।

মওদুদকে তোফায়েল বলেন, ‘আপনার নেত্রী তো ওই সময় বলেছিল, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর আগে ঘরে ফিরবেন না। পেরেছেন নামাতে?’

‘আপনারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন, গাড়ি পুড়িয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের গায়ে আগুন দিয়েছেন। কিন্তু কী করতে পেরেছেন? বাংলাদেশের মানুষ আর কোনোদিন জামায়াতকে সাথে নিয়ে ক্ষমতায় আসা মেনে নেবে না।’

বিএনপিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারকে টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানোর ক্ষমতা কি মওদুদ আহমেদের আছে?… সরকারকে নামানোর শক্তি যদি আপনাদের থাকে তবে চেষ্টা করতে পারেন।’

সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে জানিয়ে তোফায়েল বলেন, ‘আপনার (মওদুদ আহমেদ) যদি শক্তি থাকে তাহলে চেষ্টা করতে পারেন এই নির্বাচন ঠেকাতে।’

বিএনপি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নষ্ট করতে চেয়েছিল উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, ‘এই ভাষণ নষ্ট করার জন্য প্রথমে পাকিস্তান চেষ্টা করেছে। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর মাইক কেড়ে নেওয়া হতো ভাষণ বাজালে। আজ সেই ভাষণ পৃথিবী শ্রেষ্ঠ ভাষণ।’

সংগঠনের সহসভাপতি নুরুল আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান, মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক হারুন হাবীব, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুর রহমান প্রমুখ।