আগামী শুক্রবার দেশব্যাপী এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা

শিক্ষা ডেস্কঃ ২০১৯-’২০ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা আগামী শুক্রবার দেশব্যাপী একযোগে ১৯টি কেন্দ্রের ৩২টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
এ পরীক্ষায় সরকারী ও বেসরকারী মেডিকেল কলেজের দশ হাজার ৪০৪ আসনের বিপরীতে ৭২ হাজার ৯২৮ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ কথা জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সোমবার বেলা সাড়ে বারোটায় এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়াদি তুলে ধরেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিবের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুপ্রিয় কুমার কুন্ডু।
পরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়মাবলী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিশিষ্ট কলামিস্ট আবুল মকসুদ, বিএমডিসি’র সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ ও সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এতে জানানো হয়, এ বছর সরকারি ৪ হাজার ৬৮আসন ও বেসরকারি ৬ হাজার ৩৩৬ আসন মেডিকেল কলেজে মোট ১০,৪০৪টি আসনের বিপরীতে মোট ৭২,৯২৮ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছে। যা গত বছরের তুলনায় ৭,০০৯ জন বেশি।
এতে জানানো হয়, এলক্ষ্যে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ, পরীক্ষার দিন সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের নির্বিঘ্নে চলাচল, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, কোচিং সেন্টার বন্ধ, ফটোকপি মেশিন বন্ধ রাখা, পরীক্ষা কেন্দ্রের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, প্রশ্ন ও উত্তরপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কুচক্রীমহলের অপরাধ তৎপরতা বন্ধে কার্যকর সকল পদক্ষেপ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সতর্কবার্তা থাকলে পরীক্ষার্থীদেরকে আগেই পরীক্ষার হলে পৌছানোর জন্য ক্ষুদে বার্তা, বিজ্ঞপ্তি, টিভি স্ক্রলের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রস্তুত রয়েছে রয়েছে বলেও জানানো হয়।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষার দিন সকাল ৯টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে সরকারি, বেসরকারি টেলিভিশন, দৈনিক পত্রিকা এবং মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা প্রদানের মাধ্যমে নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, হল পরিদর্শক ও কর্মচারীদের সকাল ৮টার আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রে আবশ্যিকভাবে প্রবেশের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরের ৫টি কেন্দ্রের ১১টি ভেন্যুতে ৩৫,৯৮৫ পরীক্ষার্থী এবং ঢাকা বাহিরে ১৫টি জেলায় ৩৬,৯৪৩ পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কেন্দ্র সচিবগণ সমন্বয় সভা সম্পন্ন করেছেন।
ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রসমূহ তদারকির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে ১০৭ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে কেন্দ্র ও ভেন্যুভিত্তিক টিম গঠন করে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিদর্শনকারী টিমসহ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, হেডফোন, ব্লুটুথসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা কেন্দ্রে আনা, বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।