আগামী মার্চে কাদেরের নেতৃত্বে ভারত যাচ্ছেন আ.লীগের ২০ নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী মার্চে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণে দেশটিতে সফরে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এর নেতৃত্বে থাকবেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত হয়েছে।

গত জুনে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব দেশের আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলকে সে দেশ সফরের দাওয়াত পাঠান। সেই আমন্ত্রণেই যাচ্ছেন বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগামী ১০ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত আমাদের এ সফর অনুষ্ঠিত হবে।’

সফরের অংশ হিসাবে ভারতীয় হাইকমিশনে ২০ নেতার একটি তালিকা পাঠিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনই জানাতে চাইছেন না।

চলতি বছরের শেষ দিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এই সফরটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছে আওয়ামী লীগ।

গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলন এবং বর্জনের মুখে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী বিভিন্ন দেশ যখন সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল, তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে অবস্থান নেয় ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ।

দশম সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এখনও বিএনপির অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে গতবারের মতোই আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে আর আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি না এলে ভোট হবে সংবিধান অনুযায়ী।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে ভারত যাচ্ছেন এমন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকাটাইমসকে জানান, পাঁচ দিনের এই সফরে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা, আগামী নিবার্চন, খালেদা জিয়ার দণ্ড ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কন্নোয়নের বিষয়টি সফরে গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাছাড়া নির্বাচনের আগে ভারতের সঙ্গে বোঝাপড়া জরুরিও মনে করছেন তারা।

ক্ষমতাসীন দলের আরেকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। দেশটির ক্ষমতাসীন দল আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই সফরটি রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ বলেন, ‘মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমরা ভারত সফরে যাব। এর বাইরে আর আমি কিছু বলতে চাইছি না।’

যোগাযোগ করা হলে কাদেরের সফরসঙ্গী হিসেবে চূড়ান্ত হওয়া আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ভারত যাচ্ছি।’

কেন এই সফর আর সেখানে কী নিয়ে কথা হবে, এমন প্রশ্নে অবশ্য অসীম কুমার কিছু বলতে চাননি। বলেন, ‘আপনি আমাদের দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদককে জিজ্ঞাসা করুন। আমি কিছু বলতে পারব না।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে বলে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী বিজেপির শরিক উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ বা আরএসএসেরর মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে বার্তা পাঠিয়েছে বিএনপি।

আনন্দবাজার বলছে, খালেদা জিয়া যে বার্তাটি মোদি সরকারের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন সেটা হলো, শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি কূটনৈতিক পক্ষপাত বহাল না-রেখে তাঁদের সঙ্গেও একটা বোঝাপড়ার দিকে এগোক বিজেপি সরকার।

নয়াদিল্লিকে এটা বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে, বিএনপি তাদের কর্মসূচিতে সর্বদা বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে নানা ধরনের ছাড়া দেবে তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধিকারের বিষয়টি নিয়েও এবার তারা তৎপর হতে চায়।

২১ জানুয়ারি প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে অবশ্য বিএনপি বা বিজেপির কোনো নেতার বক্তব্য দেয়া হয়নি। আর প্রতিবেদনটি বাংলাদেশে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের পরও বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি।

যারা যাচ্ছেন,

ওবায়দুল কাদের, শাম্মী আহমেদ ও অসীম কুমার উকিল ছাড়া অন্য যেসব নেতা এই সফরে যাচ্ছেন, তারা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মিছবাহউদ্দিন সিরাজ, এনামুল হক শামীম, মির্জা আজম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।

Inline
Inline