আওয়ামী শিবিরে উচ্ছ্বাসে ভাটা

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা : শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে । ১৯৭৩ সালের পর ২০০৮ সালে প্রথমবার আসনটি দখলে আনার পর এবার টানা তৃতীয় জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। কিন্তু যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে দলের জোটের আলোচনা এবং বিকল্পধারার নেতা মাহী বি. চৌধুরীকে ছাড় দেয়ার সম্ভাবনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েছে

এই আসনে বারবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জিতেছেন মাহীর বাবা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে তিনি তখন ছিলেন বিএনপিতে। রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অসম্মানজনকভাবে বিদায় নেয়ার পর ২০০৪ সালে তিনি আলাদা দল বিকল্পধারা গঠন করেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিজ দলের হয়ে এই আসনে ৩৭ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়ে হন তৃতীয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সুকুমার রঞ্জন ঘোষ এক লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৯ ভোট পেয়ে জেতেন। আর বিএনপির শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ৯৯ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়ে হন দ্বিতীয়।

এবার বি. চৌধুরীর জোট যুক্তফ্রন্ট এই আসনে প্রার্থী করতে চাইছে তার ছেলে মাহী বি চৌধুরীকে। তারা আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটে যেতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট যেসব আসন চেয়েছে তার মধ্যে আছে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনটি।

তবে সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার স্থানীয় নেতারা মাহীকে আসনটি না দেয়ার দাবি জানিয়ে সোচ্চার হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দলের যেকোনো নেতাকে যেন নৌকা দেয়া হয়- এটিই হয়ে উঠেছে তাদের মূল দাবি।

বি. চৌধুরীর দল বিকল্পধারার কোনো কমিটি ও দলীয় কার্যালয় নেই শ্রীনগরে। সাংগঠনিকভাবেও তারা বেশ দুর্বল। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, পদ্মা সেতু, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের সম্ভাবনা আগের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল। কিন্তু কেবল জোটের সমীকরণে আসনটি অন্য দলকে দেয়ার মানে হয় না।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রথম জয় পায় ২০০৮ সালে। এর আগের পুরো সময়টা দলের নেতাকর্মীদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে জেল-জুলুম।

বর্তমান সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ অসুস্থ হয়ে এলাকা থেকে দূরে থাকলেও গত দুই বছরে তৃণমূল আওয়ামী লীগ ছিল বেশ চাঙ্গা। দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে এলাকা চষে বেড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার প্রকাশন উপকমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির, আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের উপকমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহসম্পাদক মাকসুদ আলম ডাবলু, কম্পিউটার সমিতির সভাপতি সুব্রত সরকারসহ আরও কয়েকজন।

সব নেতাই এলাকায় তৎপর থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত নেয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। নিয়মিত সভা-সমাবেশে জমজমাট রেখেছেন নির্বাচনী এলাকা। কিন্তু যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে জোটের আলোচনা শুরু হওয়ার পর সেসব থেমে গেছে।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশন উপকমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন আহমেদ  বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই হবেন নৌকার মাঝি। কিন্তু জোটের খবরে উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। আমরা মাঠ প্রস্তুত করেছি, কিন্তু অন্য দলের একজন তার সুফল নেবে কেন?’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী সুব্রত সরকার বলেন, ‘মনোনয়ন ফরম কিনেছি, জমাও দিয়েছি। নেত্রী যাকে মনোনীত করবেন তার পক্ষেই কাজ করব। তবে দলের বাইরে থেকে কাউকে মনোনীত করলে দলের ক্ষতি হবে বলে আমি মনে করি।’