আওয়ামী লীগ এবারও লাভে, তবে কমেছে আয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হিসাব অনুযায়ী গত বছরে (২০১৬ সাল) দলটির খরচের চেয়ে আয় বেশি হয়েছে এক কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৮ টাকা। তবে গত তিন বছর ধরেইধারাবাহিকভাবে কমছে দলের উদ্বৃত্ত। আগের বছরের তুলনায় এবারও এক কোটি ৯০ লাখ ২২ হাজার ১৭১ টাকা নিট আয় কমেছে আওয়ামী লীগের।সোমবার সকালে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আয় ব্যয়ের এই হিসাব জমা দেয়। এই হিসাব অনুযায়ী দলের তহবিলে বর্তমানে ২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১১ হাজার ৪৪১ টাকা জমা রয়েছে।এর আগে ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালেও আওয়ামী লীগের আয় কমেছিল এক কোটি ৮৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৩ টাকা।২০১৫ সালে দলের আয় দেখানো হয় সাত কোটি ১১ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৫ টাকা। আর ব্যয় দেখানো হয় তিন কোটি ৩৮ লাখ ৭৯ হাজার ৯০৬ টাকা। অর্থাৎ ওই বছর ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি ছিল তিন কোটি ৭২ লাখ ৭১ হাজার ৪৬৯ টাকা।২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের আয় ছিল নয় কোটি পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫৩ টাকা, আর ব্যয় ছিল তিন কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২১ টাকা। আর গত বছর দলটির তহবিলে উদ্বৃত্ত ছিল পাঁচ কোটি ৬১ লাখ চার হাজার ৮৩২ টাকা।অর্থাৎ ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের আয় কমে এক কোটি ৯৩ লাখ ৯৪ হাজার ২৭৮ টাকা। আর এই সময়ে আগের বছরের তুলনায় ব্যয় কমেছে পাঁচ লাখ ৬০ হাজার ৯১৫ টাকা।সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন আইন অনুযায়ী আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এর পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো এই হিসাব জমা দিয়ে আসছে।নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়ার সময় দলগুলো তাদের আয়-ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করে। কিন্তু এর বিস্তারিত জানায় না কখনও। এবারও তাই হয়েছে। আওয়ামী লীগ কেবল তার মোট আয় এবং মোট ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে। আর নির্বাচন কমিশন কখনও এই আয়-ব্যয়ের বিষয়ে কিছু বলে না। আর গত নয় বছর ধরে জমা পড়া এই হিসাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেটাও প্রকাশ করা হয়নি।নির্বাচন কমিশনে হিসাব জমা দিয়ে এসে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘গত অর্থবছরে আওয়ামী লীগের দলটির আয় ছিল চার কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের চাঁদা। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পত্র বিক্রির অর্থ, শুভানুধ্যায়ীদের অনুদান।’আর ব্যয় বলা হয়েছে তিন কোটি এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৯৯ টাকা। ব্যয়ের খাত হিসাবে দেখানো হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা, জনসভা, ত্রাণ, সাংগঠনিক খরচ।রাজ্জাক বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা নির্বাচন কমিশনে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছি। অন্য কোনো দল এই হিসাব জমা দিল কি দিল না, সেটা আমরা জানি না।’এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মণি, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।