অ্যান্টার্কটিকায় সবজি চাষে বিজ্ঞানীদের সাফল্য

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : মাটি ও সূর্যের আলো ছাড়া ফলবে সবুজ শাক-সবজি। আর তার স্বাদও সাধারণ শাক-সবজির মতই। বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন করা পন্থায় বরফের রাজ্য অ্যান্টার্কটিকায় শাক সবজি চাষ সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যতে চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহেও শাক সবজি চাষাবাদে এ গবেষণা কাজে লাগবে বলে জানিয়েছেন জার্মান বিজ্ঞানীরা।

অ্যান্টার্কটিকায় গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে৷ খুব একটা দেখা মেলে না সূর্যের৷ সেই অ্যান্টার্কটিকাতে জার্মান এরোস্পেস সেন্টার (ডিএলআর) এর একটি প্রকল্পের অধিনে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যের আলো এবং মাটি ছাড়াই প্রথমবার সফলভাবে সবজি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে৷

ইতিমধ্যে গ্রিনহাউস প্রক্রিয়ায় মহাকাশ বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সফলভাবে শাক-সবজি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে৷ অ্যান্টার্কটিকাতেও গ্রিনহাউস প্রযুক্তিসহ গবেষণা করায় এ সাফল্য মিলেছে৷ ফলে অদূর ভবিষ্যতে চাঁদ এবং মঙ্গলগ্রহের অভিযাত্রীদের সতেজ খাদ্যভাণ্ডারের প্রয়োজন মিটতে পারবে– এমনও আশ্বাস দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷

প্রথম চেষ্টায় ডিএলআর এর ইঞ্জিনিয়ার এবং অ্যান্টার্কটিকার এ উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণকারী পল জাবেল ৩.৬ কেজি লেটুস, ৭০টি মূলা, ১৮টি শসা ফলিয়েছেন৷ রোজ গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করার পর অ্যান্টার্কটিকার বাগানে এই ফসল ফলানো সম্ভব হয়েছে৷
জাবেল জানান, ”ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বীজ ফেলার পর, আমাকে বেশ কয়েকটি সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়েছে৷ কখনও যান্ত্রিক গোলযোগের সম্মুখীন হতে হয়েছে, কখনও ঝড়ের মুখে পড়তে হয়েছে৷ তবে সৌভাগ্যক্রমে সব কিছুই অতিক্রম করতে পেরেছি৷”

অ্যান্টার্কটিকার গ্রিনহাউসে বর্তমানে ব়্যাডিশ, স্যালাড পাতা, টমেটো, শসা, গোলমরিচের পাশাপাশি তুলসী, পার্সলে, ধনেপাতার মতো শাক সবজির চাষ হচ্ছে৷

প্রজেক্ট ম্যানেজার ডানিয়েল শুবার্ট বলেন, ”আমরা স্বপ্রজননক্ষম উদ্ভিদের সন্ধানও পেয়েছি৷ অ্যান্টার্কটিকায় আমাদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে এগুলি কাজে আসবে৷ তবে স্ট্রবেরি চাষের ক্ষেত্রে ধৈর্য্য রাখা ছাড়া উপায় নেই৷” সূত্র: ডয়চে ভেলে

Inline
Inline