অশ্রুসিক্তের অপেক্ষায় তুরাগ তীরে লাখো মুসল্লি

৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের অংশ নিতে মুসল্লিদের লাখ লাখ মুসল্লির ঢল নেমেছে ইজতেমা ময়দান ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে।

রবিবার সকাল ১১টার মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ছুটছেন টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে। মানুষের ভিড়ে রেডিসন, কুড়িল ফ্লাইওভার, খিলক্ষেত, উত্তরা, জসিমউদ্দীন, আবদুল্লাহপুর, চৌরাস্তা, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল শিথিলতা করা হয়েছে। যানবাহন না পেয়ে অধিকাংশ মুসল্লি পায়ে হেঁটেই রওনা হয়েছেন।

ইজতেমার কারণে কুড়িল ফ্লাইওভারে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চলতে দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ইজতেমা ময়দান এলাকাজুড়ে অন্যরকম এক ধর্মীয় পরিবেশ বিরাজ করছে।

বেলা ১১টায় শুরু হতে যাওয়া আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বাংলাদেশের মাওলানা হাফেজ মো. জোবায়ের। তিনি প্রথমবারের মতো বাংলায় মোনাজাত করবেন বলে ইজতেমার আয়োজকরা জানিয়েছেন। মোনাজাতের আগে তিনি ঈমান ও আমলের ওপর বিভিন্ন হেদায়েতি বয়ান করবেন। এখন তাশকিল কামরায় ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের মধ্য থেকে সাথী বাছাইয়ের কাজ চলছে।

এর আগে বাদ ফজর থেকে আল্লাহ পাকের অশেষ মহিমায় আবেগাপ্লুত লাখো মুসল্লির কণ্ঠে উচ্চারিত ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে কহর দরিয়ার পাড়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে বয়ান, জিকির-আসকার, ইবাদত-বন্দেগি। প্রতিবছর আখেরি মোনাজাতের আগে হেদায়েতি বয়ান করা হয়ে থাকে। হেদায়েতি বয়ান করছেন বাংলাদেশি মাওলানা আব্দুল মতিন। সব মিলিয়ে এবারের আখেরি মোনাজাত ও হেদায়েতি বয়ান দু’টোই হবে বাংলায়। অশ্রুসিক্ত নয়নে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণে ব্যাকুল হয়ে ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নিয়েছেন লাখো মুসল্লি।

মোনাজাতে শামিল হতে ঢাকা ছাড়াও গাজীপুর, নরসিংদী, ভৈরব, সাভার, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইজতেমা ময়দানে ট্রেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, জিপ, কার এবং নৌকাসহ নানা ধরনের যানবাহনে ইজতেমা ময়দানের দিকে ছুটে আসছেন মানুষ। ইজতেমা ময়দানে ঢুকতে না পেরে অনেকে রাস্তায় পাটি বিছিয়ে তাসবিহ-তাহলিল পড়ছেন।

শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানের দিকে যাচ্ছেন। শনিবার রাত ১২টা থেকে যানবাহন চালাচল বন্ধ থাকায় রবিবার ভোর থেকে মুসল্লিরা ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। গাড়ি না পেয়ে অনেক মুসল্লি পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেছেন।

আখেরি মোনাজাতে নিরাপত্তার বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন আর রশিদ জানান, আখেরি মোনাজাতের পর মুসল্লিদের বাড়ি ফেরা পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের সাত হাজারের বেশি পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া সাদা পোশাকে মুসল্লিদের বেশে খিত্তায় খিত্তায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে মোনাজাতে অংশ নিতে মুসল্লিদের যেন সমস্যা না হয় সেজন্য আজমপুর, উত্তরাসহ আশ-পাশের ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাইকের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাবলিগ জামাতের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার এবারের প্রথম পর্ব।

চার দিন বিরতি দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দফা শুরু হবে আগামী ১৯ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার আসর।