অভিযান চললে ব্যবসা বন্ধের হুমকি স্বপ্নের

নিজস্ব সংবাদদাতা : ভ্রাম্যমাণ আদালত অন্যায্যভাবে জরিমানা করেছে অভিযোগ করে এর সুরাহা দাবি করেছে চেইন সুপার শপ স্বপ্ন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তারা।

রবিবার রাজধানীর বনানীনে সুপার শপের শাখায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই অভিযানের বিষয়ে গণমাধ্যমে যেসব তথ্য এসেছে সেগুলো স্বপ্নের জন্য বিব্রতকর।

অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের বক্তব্য স্বপ্নের ‘কষ্টের টাকায় শ্রেষ্ঠ বাজার’ বলে প্রতিষ্ঠানটির স্লোগানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়ার মতো। আর গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ভোক্তারা তীব্র প্রতিক্রিয়াও জানাচ্ছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে স্বপ্ন দাবি করেছে, জরিমানা করার আগে তাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

স্বপ্নের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘স্বপ্ন মনে করে এ ধরনের কার্যক্রম স্বপ্নের ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ রূপে নষ্ট করে দেয় এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার সময় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া না হলে স্বপ্ন তার কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।’

‘স্বপ্ন এ ব্যাপারে সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।’

অভিযোগ নিয়ে স্বপ্নের ব্যাখ্যা

স্বপ্ন তার বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, তারা জেনে শুনে কখনও কোনো মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য তার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করবে না।’

স্বপ্নের দাবি, যেসব পণ্যকে মেয়াদ উত্তীর্ণ বলা হচ্ছে তা দোকানের পেছনের অংশে ‘Damaged & Expired, Not for Sale’ লিখে আলাদা করে চিলারে রাখা ছিল।’
‘মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে বা পচে গেলে সুপারস্টোরে খাবার ব্যাক অফিসে (ক্রেতা সাধারণের দৃষ্টির বাইরে) পেছনের চিলারে রাখা হয় যাকে ‘Damaged & Expired’ হিসেবে গণ্য করে করে পরবর্তী সময়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়। সেসব পণ্য কখনই আবার সামনে আসে না।’

স্বপ্নকে জরিমানা করার আরেকটি কারণ ছিল, বিদেশি কোমল পানীয়ের দাম বেশি রাখা। একই কোমল পানীয় অন্য দোকানে ৯৭ টাকায় পাওয়া গেলেও স্বপ্নে এই পণ্যে দাম ছিল ১৭৭ টাকা। আর এগুলো বিক্রির বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

এর ব্যাখ্যায় স্বপ্ন দামের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করেনি। তবে পণ্যগুলোর বৈধতার বিষয়ে তারা বক্তব্য দেয়।

স্বপ্ন বলে, ‘যে সমস্ত কোমল পানীয়র কথা বলা হয়েছে তা সরাসরি প্রস্তুতকারক বা সরকার অনুমোদিত আমদানিকারক থেকে স্বপ্নতে আসে। এ ব্যাপারে যেকোনো সময় যে কারো কাছে স্বপ্ন চাওয়া মাত্র প্রমাণাদি দিতে পারে।’

স্বপ্নকে জরিমানা করার আরেকটি কারণ, রোজায় গরুর মাংসের নির্ধারিত দাম ৪৫০ টাকা হলেও সেখানে কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল এই মাংস।

এর ব্যাখ্যায় স্বপ্ন বলেছে, অন্যান্য সুপার শপের মতো তারাও বিভিন্ন রকমের গরুর মাংস বিক্রি করে। আর ৫৫০ টাকা দামের যে গরুর মাংসের কথা বলা হয়েছে তা হাড় ছাড়া। হাড়সহ গরুর মাংস সরকার থেকে নির্ধারিত দামেই বিক্রি করা হচ্ছে।’