অবৈধ কারখানা উচ্ছেদে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকায় অবৈধ কারখানা উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে ক্র্যাশ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধদের দেখতে এসে এ কথা জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ এলাকায় আমরা অভিযান চালাচ্ছিলাম। অননুমোদিত ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, জরিমানা হচ্ছে, মামলা হচ্ছে। উচ্ছেদ হচ্ছে দু’মাস বন্ধ থাকে আবার স্থানীয়ভাবে চুরি করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বাড়িতে অনেকে চুরি করে যখন এগুলো করে তখন অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয় না। এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য আমি চাই একটি সমন্বিত উদ্যোগ।’

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘কোনো ধরনের রাসায়নিক কারখানা দিতে হলে বিস্ফোরক অধিদফতরের অনুমতি নিতে হয়। লাইসেন্সের দরকার হয়, সেই লাইসেন্স দেয় সিটি কর্পোরেশন। প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। সেটাও করে সিটি কর্পোরেশন। আমি মনে করি আমাদের দুর্বল জায়গাটি হচ্ছে সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের। নিমতলীর ঘটনার পর ব্যাপকভাবে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে আবার শুরু করেছে যখন এ বিষয়ে মানুষের অ্যাটেনশন ডাইভার্ট হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা পুরো এলাকায় একটা জরিপ চালাব যে, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা বা গোডাউন কোথায় কোথায় আছে।’

কমিশনার আরও বলেন, ‘সেক্ষেত্রে আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা সিটি কর্পোরেশন, বিস্ফোরক অধিদফতর তাদেরকে সমন্বয় করব। কারণ মূল কাজটি করবে তারা। আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের আইনি সহায়তা দেয়া। বল প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের উচ্ছেদ করা। সেই কাজ করার জন্য আমরা তৎপর রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি কালবিলম্ব না করে দ্রুত একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হবে। ইতোমধ্যে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নিতে হবে, সমন্বিত প্রোগ্রাম নিতে হবে। সরকারের সব সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এককভাবে কারো পক্ষে সম্ভব না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সহযোগিতা করতে হবে। ব্যাপক জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।’

দুর্ঘটনার কারণ তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘দুর্ঘটনার প্রথম কারণ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুন লেগেছে একটা পিকআপ ভ্যানে। যেখানে আট-দশটি সিলিন্ডার পরিবহন হচ্ছিল। আট দশটা সিলিন্ডার একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে পাশের ট্রান্সমিটার এবং এসির কম্প্রেসার এবং ইলেকট্রিক তারে আগুন লেগে যায়। এ আগুন পাশে একটা হোটেলে ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলে একটা বড় সিলিন্ডার ছিল, সেগুলোয় আগুন লগে ভয়াবহভাবে পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে যায়। পথচারী যারা ছিল, রিকশাযাত্রী ছিল, যারা ছিল গাড়িতে তারাই কিন্তু প্রথম আক্রান্ত হয়। এ আগুন লেগেছে পাশের ছয় তলা ভবন এবং আশপাশের ভবনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেটিও হয়তো সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যেত কিন্তু ওই ভবনের নিচতলায় ছিল প্লাস্টিকের দানা ও তিন তলায় ছিল বডি স্প্রের গোডাউন। আমার মনে হয় মিলিয়ন মিলিয়ন বডি স্প্রে ওখানে মজুদ ছিল।’

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত ৭০ জন নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।