অপরিকল্পিত দালান আর নয়: পূর্তমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : এখন থেকে আর অপরিকল্পিত কোনো দালান নির্মাণ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

সোমবার সচিবালয়ে ভূমিকম্প বিষয়ে রাজউকের ‘আরবান রেজিলেন্স প্রকল্প’ নিয়ে পর্যালাচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন নতুন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী।

পুরনো ঢাকায় ব্যাপক এরিয়া জুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে, এক্ষেত্রে কোন পদক্ষেপ নেবেন কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে। যে ইমারতগুলো বসবাস অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। বেশকিছু কাজ এগিয়ে গেছে, এগুলো সম্পন্ন করার পর কোন রকম বাধা আমরা মেনে নেব না। আমরা মানুষের নিরাপত্তা, জীবনের নিরাপত্তা, নগরীর পরিবেশ এবং পরিকল্পিত নগরী রক্ষার জন্য এসব বিল্ডিং ভেঙে ফেলার জন্য তাদের (মালিকদের) তাগিদ দেব। তারা যদি ভাঙতে না চান, আইনগতভাবে আমরা ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেব।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘অতীতে কী হয়েছে জানি না। এখন থেকে অপরিকল্পিত কোন দালান নির্মিত হবে না। যে দালান বেআইনীভাবে নির্মিত হয়েছে সেক্ষেত্রে আইন তার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এক মাস পরে জানাতে পারব। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দিয়েছি যেটা কোনোভাবেই বসবাস যোগ্য না বা রক্ষার যোগ্য নয় বা অপরিকল্পিতভাবে হয়েছে- সেগুলোকে আমরা নির্ধারণ করে মফস্বল এবং ঢাকায় সর্বত্রই ব্যবস্থা নেব।

ইতোমধ্যে এই জাতীয় (ঝুঁকিপূর্ণ) দালানকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। চলার গতিটা ইনশাল্লাহ বাড়িয়ে দেব। আত্মবিশ্বাস রাখেন, আমি তো তিন/চারদিন হয়েছে আসলাম এই মন্ত্রণালয়ে, আমাকে একটু সময় দেন ইনশাল্লাহ একটা রেডিকেল চেঞ্জ দেখতে পারবেন।’

আমরা যতটা জানি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের একটি তালিকা ইতোমধ্যে হয়েছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক জায়গায় বসবাস অনুপোযোগী ইমারত আছে, সেটাকে একটা নোটিশ দেয়া হয়েছে। দেখা গেছে নোটিশটা যেভাবে হওয়া উচিত, সুনির্দিষ্টভাবে এই সুনির্দিষ্টতার কিছু অস্পষ্টতা থাকায় অনেকে আদালতের আশ্রয় নিয়েছে। বলেছে এটা ভেগ টার্ম। ফলে আদালতের বেশকিছু মামলায় স্থগিতাদেশ বা ইনজাংশন রয়েছে। এ ধরণের প্রায় ৮ হাজার মামলা আছে। সেই মামলাগুলোকে কীভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায় সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেব। এ ব্যাপারে আমরা রাজউকে বসেছি।’

মন্ত্রী বলেন, আমি নিজে যেহেতু ল-ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছি, কাজেই লিগ্যাল ম্যাটার্সগুলোকে সলভ করতে হবে। আমরা আইনকে অমান্য করে কিছু করতে চাই না। তবে আইনের ঠুনকে অজুহাতে আবার সকল উন্নয়ন কাজ অথবা ঝুঁকিপূর্ণ কাজকে আটকে রাখা সেটাও নিশ্চই হবে না। আমরা আরও বেশি আইনজ্ঞদের এসব মামলায় সম্পৃক্ত করব।

রাজউকে দুর্নীতির কথা শোনা যায়- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেব। আমার কাছে সুনির্দিষ্টভাবে সব খবর নেই। আমি শুনেছি অনেক অনিয়ম, দুর্নীতির কথা। আপনারা সাংবাদিকেরা সমাজ-রাষ্ট্রের তৃতীয় চক্ষু। আমাকে সাহায্য করুন, একটা সুনির্দিষ্ট তথ্যের পর যদি ব্যবস্থা না হয় বিং মিনিস্টার, আই উইল টেক দি রেসপন্সিবিলিটিজ। আমাকে সাহায্য করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গৎবাঁধা চলছে, চলবে এ রকম নয়। সাহায্য করুন, দেখুন অ্যাকশন হয় কিনা? আমি যেহেতু স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, কাজেই আমার টিম ওয়ার্কে রাজউকসহ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে যারা আছেন সবাইকে তাই করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই। আমাকে একটু সময় দেন, দেখবেন অবশ্যই পরিবর্তন হবে।’

সভার বিষয়ে গৃহায়ণমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কয়েকটি প্রকল্প সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশে ভূমিকম্প থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায়, প্রতিরোধ করা যায়, অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে মোকাবেলা করা যায়- সে বিষয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে আরও গতিশীল পদক্ষেপ নিতে হবে। সেক্ষেত্রে ১১টি এজেন্সিকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। লিগ্যাল ও টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা কীভাবে কাজ করবেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। দুর্যোগকে মোকাবেলা করতে কীভাবে আরও গতিশীলতা, দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে, যাতে মানুষ এবং গবাদিপশুকে অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়তে হয়। এ বিষয়ে সভায় আলোচনা করেছি।’