অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা বলয়ে দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যেকোনো সামরিক হামলা থেকে রক্ষা করতে নয়াদিল্লিতে ‘ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা বলয়’ গড়ে তুলছে ভারত। ওয়াশিংটন ও মস্কোর মত ক্ষেপনাস্ত্র ধ্বংস ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দিল্লি। এ প্রকল্পটির নাম দেয়া হয়েছে ন্যাশনাল অ্যাডভান্সড সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম-টু।

এই ক্ষেপণাস্ত্ররোধী বলয়ের মাধ্যমে শত্রু ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গাকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র এলাকায় ঢোকার আগেই তাকে রাডার দিয়ে চিহ্নিত করে পাল্টা স্বয়ংক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করবে এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

নতুন এ ব্যবস্থায় মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন, এমনকী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকেও। আমেরিকার কাছ থেকে এই নতুন প্রযুক্তি ও যুদ্ধাস্ত্র কেনার প্রস্তাবে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

এতদিন রুশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমেই সুরক্ষিত রাখা হতো ভারতের রাজধানীকে। তবে তা সেকেলে হয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তাই প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা খরচ করে নয়া মার্কিন সুরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করছে ভারত।

একইসঙ্গে ভিআইপি নো-ফ্লাই জোনকেও ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি প্রশাসন। বেআইনিভাবে দেশের সীমানায় ঢুকে পড়া বিমানও যাতে যখন তখন মাটিতে নামিয়ে আনা যায়, সেই নীতিতেও আনা হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক পরিবর্তন। রাজধানী দিল্লির আকাশপথ সুরক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিআইপি এলাকাগুলির পুনরায় নির্ধারণের কাজ চলছে। এর মধ্যে পড়বে রাষ্ট্রপতি ভবন, সংসদ ভবন, নর্থ ও সাউথ ব্লক।

ঠান্ডাযুদ্ধের সময় সম্ভাব্য রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হানা থেকে দেশের রাজধানীকে বাঁচাতে ‘ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা বলয়’ তৈরির কথা প্রথম ভেবেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন। কয়েক বছর পর ওয়াশিংটনকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল এই সুরক্ষা বলয়, যাকে ‘মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম’ নামেই চিহ্নিত করেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটনে প্রথম শুরু হলেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন দুর্ভেদ্য রাখা হয়েছে মস্কো ও ইজরায়েলের শহরগুলি।