অক্টোবরের মাঝামাঝি আ.লীগ ও বিএনপির সঙ্গে সংলাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ধারাবাহিকতায় অক্টোবরের মাঝামাঝিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে বসার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী ১২ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে এবং ১৫ বা ১৬ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসার কথা ইসির।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঘোষিত পথনকশা অনুযায়ী নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ করছে ইসি।
গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে ইসি। এ পর্যন্ত সাতটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে সংস্থাটি। প্রথম পর্বে ২০টি দলের সময়সূচি চূড়ান্ত করে রেখেছে ইসি।এই পর্বের অন্য দলগুলোর জন্য সময়সূচি হলো ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে কল্যাণ পার্টি ও বিকালে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক অন্দোলন, বিকালে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বিকালে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল-পিডিপি, ২০ সেপ্টেম্বর সকালে গণফ্রন্ট, বিকালে গণফোরাম এবং ২১ সেপ্টেম্বর সকালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিকালে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির-এনপিপি।দ্বিতীয় পর্বের ২০টি দলের মধ্যে রয়েছে দেশের বড় তিনটি দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি।ইসি কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় পার্টির সঙ্গে ৯ অক্টোবর, বিএনপির সঙ্গে ১২ অক্টোবর এবং ১৫ অথবা ১৬ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের সূচির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এর আগে বলেছিলেন, পথনকশা অনুযায়ী ৩১ জুলাই সংলাপ শুরু হয়ে অক্টোবরের মধ্যে সবার সঙ্গে সংলাপ শেষ করার চেষ্টা করবেন তারা।পথনকশা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর আগে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। এরপর ২৪ আগস্ট শুরু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ।ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, দ্বিতীয় পর্বের বাকি ২০টি দলের প্রস্তাবিত সময়সূচি দ্রুতই চূড়ান্ত করা হবে।প্রস্তাবিত সময়সূচি চূড়ান্ত হলে ২ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও বিকালে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ৪ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও বিকালে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ৫ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও বিকালে জাকের পার্টি, ৮ অক্টোবর সকালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও বিকালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।এরপর ৯ অক্টোবর সকালে জাতীয় পার্টি ও বিকালে বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ১১ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, ১২ অক্টোবর সকালে গণতন্ত্রী পার্টি বিকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, ১৫ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিকালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ১৬ অক্টোবর সকালে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল(এমএল) ও বিকালে আওয়ামী লীগ এবং ১৭ অক্টোবর সকালে জাতীয় পার্টি-জেপি ও বিকালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির সঙ্গে মতবিনিময়ের সূচি প্রস্তাব করেছে ইসি সচিবালয়।এ ছাড়া ২৩ অক্টোবর পর্যবেক্ষক, ২৫ অক্টোবর নারী নেত্রী এবং ৩০ অক্টোবর নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি।যাদের সঙ্গে সংলাপ হয়েছেএকাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইন সংস্কার, সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে সংলাপের আয়োজন করে ইসি। গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। পরে ১৬ ও ১৭ আগস্ট অর্ধশত গণমাধ্যম কর্মীর সঙ্গে সংলাপ করে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নেয়া হয়।ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে ২৪ আগস্ট নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে ইসি। প্রথম দিন বিকালে সংলাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট। সেদিন সকালে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ শুরুর কথা থাকলেও দলীয় কর্মসূচি থাকায় তারা এক মাস পরে সংলাপে ডাকার আবেদন জানিয়ে চিঠি দেয় ইসিকে। ২৮ আগস্ট সকালে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল, বিকালে খেলাফত মজলিশ, ৩০ অগাস্ট বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিকালে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা, ১২ সেপ্টেম্বর সকালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বিকালে ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। প্রতিটি সংলাপেই প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।দেশের মোট ৪২টি দল ইসির নিবন্ধন পেলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।